বাংলাদেশে তামাদি আইন, ১৯০৮ মূলত দেওয়ানি মামলার (civil cases) সময়সীমা নির্ধারণ করে, আর ফৌজদারি মামলা (criminal cases) সংক্রান্ত সময়সীমা সাধারণত ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (Criminal Procedure Code, CrPC) এবং অন্যান্য বিশেষ আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নিচে এ দুটি আইনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য তুলে ধরা হলো—
🔹 (১) দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার প্রকৃতি
বিষয় | তামাদি আইন (Limitation Act) | ফৌজদারি মামলা (Criminal Cases) |
---|---|---|
প্রকৃতি | ব্যক্তিগত অধিকার সংক্রান্ত, যেমন জমি, চুক্তি, দেনাপাওনা, ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি | অপরাধমূলক কাজ সংক্রান্ত, যেমন খুন, ডাকাতি, জালিয়াতি ইত্যাদি |
লক্ষ্য | মামলার কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং আইনি স্থিতিশীলতা রক্ষা করা | অপরাধীদের বিচার করা এবং শাস্তি প্রদান করা |
ক্ষতির ধরন | অর্থনৈতিক বা সম্পত্তি সম্পর্কিত ক্ষতি | সমাজ বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কার্যক্রম |
🔹 (২) সময়সীমার নির্ধারণের পদ্ধতি
বিষয় | তামাদি আইন (Limitation Act) | ফৌজদারি মামলা (Criminal Cases) |
---|---|---|
সময় গণনার ভিত্তি | মামলা দায়েরের অধিকার পাওয়ার দিন থেকে শুরু | অপরাধ সংঘটিত হওয়ার দিন থেকে শুরু |
মেয়াদ শেষ হলে ফলাফল | মামলাটি গ্রহণযোগ্য হবে না | গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো সীমাবদ্ধতা নেই |
সময়সীমা নির্ধারণের নিয়ম | নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে মামলা করার অধিকার থাকে না | কিছু মামলায় নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে, তবে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে থাকে না |
🔹 (৩) কিছু সাধারণ সময়সীমার তুলনা
📌 তামাদি আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা (দেওয়ানি মামলা)
1️⃣ চুক্তিভঙ্গের মামলা – ৩ বছর
2️⃣ দেনা আদায়ের মামলা – ৩ বছর
3️⃣ জমি পুনরুদ্ধারের মামলা – ১২ বছর
4️⃣ মানহানি ও ক্ষতিপূরণ মামলা – ১ বছর
5️⃣ উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মামলা – ১২ বছর
📌 ফৌজদারি মামলায় কিছু সাধারণ সময়সীমা (Criminal Cases)
1️⃣ তুচ্ছ অপরাধ (সারাংশ মামলা, Summons Case) – ৬ মাস
2️⃣ মাঝারি মাত্রার অপরাধ (সান্ধ্যকালীন অপরাধ, Warrant Case) – ২-৩ বছর
3️⃣ গুরুতর অপরাধ (গ্রেভিয়াস অফেন্স, যেমন খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি) – কোনো সময়সীমা নেই
🔹 (৪) গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম
👉 ফৌজদারি মামলায় গুরুতর অপরাধের (যেমন হত্যা, ধর্ষণ, দুর্নীতি) ক্ষেত্রে সাধারণত সময়সীমা থাকে না।
👉 তামাদি আইন দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করে, যা অতিক্রান্ত হলে মামলাটি বাতিল হয়ে যায়।
🔹 (৫) প্রতারণা বা জালিয়াতির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম
বিষয় | তামাদি আইন (Limitation Act) | ফৌজদারি মামলা (Criminal Cases) |
---|---|---|
প্রতারণা বা তথ্য গোপন করলে | তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী, প্রতারণা বা তথ্য গোপনের কারণে সময়সীমা তখনই শুরু হবে যখন প্রতারণার বিষয়টি জানা যাবে। | ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত আইনে প্রতারণা বা জালিয়াতির শাস্তি নির্ধারিত থাকে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হলেও মামলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। |
🔹 (৬) আদালতের ভূমিকা ও মামলার গ্রহণযোগ্যতা
বিষয় | তামাদি আইন (Limitation Act) | ফৌজদারি মামলা (Criminal Cases) |
---|---|---|
আদালতের বাধ্যবাধকতা | আদালত তামাদি আইন ধারা ৩ অনুসারে নিজ থেকেই মামলা খারিজ করতে পারে, যদি সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়। | ফৌজদারি মামলায় আদালতকে সময়সীমার ব্যাপারে অধিক নমনীয় হতে হয়, বিশেষ করে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে। |
🔹 উপসংহার
✅ তামাদি আইন মূলত দেওয়ানি মামলার সময়সীমা নির্ধারণ করে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর মামলা করলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না।
✅ ফৌজদারি মামলায়, বিশেষত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে, সাধারণত কোনো সময়সীমা থাকে না এবং বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে পারে যতদিন প্রয়োজন হয়।
✅ ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনের মধ্যে পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা নির্ধারণ করে কোন ক্ষেত্রে মামলা করা যাবে ও কতদিনের মধ্যে করা যাবে।