পেনাল কোড ১১০ ধারা : প্ররোচনা, শাস্তি

পেনাল কোড সেকশন ১১০: প্ররোচনার শাস্তি, যদি প্ররোচিত কাজ ভিন্ন উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হয়

বাংলাদেশের পেনাল কোডের সেকশন ১১০ এমন ব্যক্তিদের শাস্তি নিয়ে আলোচনা করে যারা অপরাধ প্ররোচিত করে কিন্তু প্ররোচিত কাজটি অন্য উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হয়। এই ধারা নিশ্চিত করে যে প্ররোচনাকারী অপরাধের জন্য দায়ী থাকবে, এমনকি অপরাধটি যদি ভিন্ন উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হয়। এই আইনি বিধান অপরাধের কার্যকর বাস্তবায়নে একাধিক পক্ষের অবদানকে বিবেচনা করে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পরোক্ষভাবে যুক্ত ব্যক্তিদেরও দায়ী করে।

এখন আমরা এই আইনের মূল বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করবো:

১) আমলযোগ্য/অ-আমলযোগ্য

পেনাল কোড সেকশন ১১০ এর প্ররোচনার ক্ষেত্রে এটি আমলযোগ্য বা অ-আমলযোগ্য হবে অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী।

  • আমলযোগ্য অপরাধ: যদি প্ররোচিত অপরাধটি আমলযোগ্য হয় (যেমন, খুন, ডাকাতি), তবে প্ররোচনাকারীও আমলযোগ্য অপরাধের জন্য শাস্তিযোগ্য হবে।
  • অ-আমলযোগ্য অপরাধ: যদি মূল অপরাধ অ-আমলযোগ্য হয় (যেমন, মানহানি), প্ররোচনাকারীর ক্ষেত্রে তা অ-আমলযোগ্য হবে।
মূল কথা:

প্ররোচনার আমলযোগ্যতা প্ররোচিত অপরাধের উপর নির্ভর করে।

২) ওয়ারেন্ট/সমন

সেকশন ১১০ এর অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওয়ারেন্ট বা সমন পাবে কিনা তা প্ররোচিত অপরাধের ধরন অনুসারে নির্ধারিত হয়।

  • ওয়ারেন্ট: যদি অপরাধ গুরুতর হয় (আমলযোগ্য এবং জামিনযোগ্য নয়), আদালত প্ররোচনাকারীর জন্য ওয়ারেন্ট ইস্যু করবে।
  • সমন: যদি অপরাধ ছোট হয় (অ-আমলযোগ্য বা জামিনযোগ্য), প্ররোচনাকারীর জন্য সমন ইস্যু করা হবে।
মূল কথা:

প্ররোচিত অপরাধের আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে ওয়ারেন্ট বা সমন নির্ধারিত হয়।

৩) জামিনযোগ্য/অ-জামিনযোগ্য

সেকশন ১১০ এর অধীনে প্ররোচনাকারীর জামিনযোগ্যতা প্রধান অপরাধের উপর নির্ভর করে।

  • জামিনযোগ্য অপরাধ: যদি প্ররোচিত অপরাধ জামিনযোগ্য হয়, প্ররোচনাকারী জামিনের আবেদন করতে পারে।
  • অ-জামিনযোগ্য অপরাধ: যদি অপরাধটি অ-জামিনযোগ্য হয় (যেমন, খুন, ধর্ষণ), প্ররোচনাকারীর জামিন পাওয়া কঠিন হতে পারে।
মূল কথা:

জামিন পাওয়ার সিদ্ধান্ত মূল অপরাধের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।

৪) আপোষযোগ্য/অ-আপোষযোগ্য

আইনগতভাবে, অপরাধ আপোষযোগ্য হলে ভুক্তভোগী এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের বাইরে মীমাংসা করতে পারে। সেকশন ১১০ এর অধীনে প্ররোচনাকারীর ক্ষেত্রে আপোষযোগ্যতা মূল অপরাধের সাথে সম্পর্কিত:

  • আপোষযোগ্য অপরাধ: যদি মূল অপরাধ আপোষযোগ্য হয় (যেমন, আঘাত বা চুরি), প্ররোচনাকারীও একইভাবে আপোষের জন্য যোগ্য হতে পারে।
  • অ-আপোষযোগ্য অপরাধ: যদি অপরাধটি অ-আপোষযোগ্য হয় (যেমন, খুন), প্ররোচনাকারীর ক্ষেত্রে কোনো আপোষের সুযোগ থাকবে না।
মূল কথা:

প্ররোচনাকারীর কর্মকাণ্ডের আপোষযোগ্যতা মূল অপরাধের আপোষযোগ্যতার উপর নির্ভর করে।

৫) শাস্তি

সেকশন ১১০ নিশ্চিত করে যে প্ররোচনাকারী অপরাধকারী ব্যক্তির মতো একই শাস্তি পাবে, যদিও অপরাধটি ভিন্ন উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হয়। শাস্তি মূল অপরাধের সাথে সংযুক্ত:

  • প্রধান অপরাধের সমান শাস্তি: প্ররোচনাকারী অপরাধীর মতোই শাস্তিযোগ্য হবে, অপরাধের গুরুত্ত্ব এবং আইনে নির্ধারিত শাস্তি অনুযায়ী।
মূল কথা:

প্ররোচনাকারী প্রধান অপরাধীর মতোই শাস্তিযোগ্য হবে, যা তাদের অপরাধমূলক ভূমিকার জন্য দায়বদ্ধ করে।

৬) কোন আদালতে বিচারযোগ্য

সেকশন ১১০ এর অধীনে প্ররোচনাকারীর বিচার প্রধান অপরাধ এর বিচার যে আদালতে হবে, সেই আদালতেই হবে।

  • ম্যাজিস্ট্রেট আদালত: ছোট অপরাধের জন্য মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার হতে পারে।
  • সেশন আদালত: গুরুতর অপরাধের জন্য মামলাটি সেশন আদালতে বিচার করা হবে।
মূল কথা:

প্রধান অপরাধের গুরুত্ত্ব অনুসারে আদালত নির্ধারিত হবে এবং সাধারণ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে।


উপসংহার

পেনাল কোডের সেকশন ১১০ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিধান যা প্ররোচনাকারীদের অপরাধের জন্য দায়বদ্ধ করে, এমনকি যদি অপরাধটি ভিন্ন উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হয়। এই ধারা প্ররোচনাকারীদের দায়বদ্ধ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের ভূমিকার জন্য, যা বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।

যদি এই বিষয় নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে বা আইনি সহায়তা প্রয়োজন হয়, তাহলে একজন আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন। আইন সম্পর্কে সচেতন থাকা যেকোনো আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক।