নিবন্ধিত দলিল সংশোধনের পদ্ধতি: একটি সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

দলিল রেজিস্ট্রির পর তাতে দাগ, খতিয়ান বা নামের ছোটখাটো কোন ভুল ধরা পড়লে এবং ভুল সংশোধন করলে দলিলের মূল কাঠামো বা স্বত্বের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না, সেরূপ ভুল সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার বরাবরে আবেদন করা যাবে। সাব-রেজিস্ট্রার এই ধরনের ছোটখাটো ভুল সংশোধন করতে পারেন। এটাকে ভ্রুম সংশোধনী দলিল বলা হয়।

রেজিস্ট্রেশন বিধিমালার ৭৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, রেজিস্ট্রিকৃত বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য গৃহীত দলিলে ভুল থাকলে এবং তা সংশোধনের জন্য কোনো সম্পূরক দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য মূল দলিল বা অবিকল নকলসহ দাখিল করা হলে, যে রেজিস্টার বহিতে মূল দলিলটি নকল করা হয়েছে তার মার্জিনে এই সংশোধনের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার একটি টীকা লিখবেন যে, দলিলটি সংশোধন করা হয়েছে।

সংশোধন দলিল কী?

যখন নিবন্ধিত দলিলে কোনো ভুল বা ত্রুটি পাওয়া যায়, তখন এটি সংশোধন করার জন্য একটি সংশোধন দলিল তৈরি করা যেতে পারে। এই দলিলকে “ভ্রম সংশোধন দলিল” বলা হয়, যা পূর্ববর্তী দলিলের করণিক ভুল বা সৎ বিশ্বাসের ভুল সংশোধন করে। এতে উভয় পক্ষের সম্মতি ও উপস্থিতি প্রয়োজন।

কোন ধরণের ভুল সংশোধন করা যায়?

সংশোধন দলিলের মাধ্যমে নিম্নলিখিত ধরণের ভুলগুলি সংশোধন করা যায়:

  1. অনিচ্ছাকৃত বানান ত্রুটি:
    • দলিলে লেখার সময় কোনো অনিচ্ছাকৃত বানান ভুল হলে তা সংশোধন করা যেতে পারে।
    • যেমন: নাম, ঠিকানা, সম্পত্তির বিবরণ ইত্যাদির বানান ভুল সংশোধন করা যেতে পারে।
  2. টাইপিং ত্রুটি:
    • টাইপিংয়ের সময় কোনো ত্রুটি হলে তা সংশোধন করা যায়।
    • যেমন: সংখ্যাগত ভুল, তারিখের ভুল, শব্দের ভুল ইত্যাদি।
  3. সম্পত্তির বিবরণে ভুল:
    • দলিলে সম্পত্তির সঠিক বিবরণ না দিলে বা ভুল বিবরণ দিলে তা সংশোধন করা যায়।
    • যেমন: সম্পত্তির সীমা, পরিমাপ, অবস্থান ইত্যাদি সংক্রান্ত ভুল।

তবে, সংশোধন দলিলের মাধ্যমে নিম্নলিখিত ভুলগুলো সংশোধন করা যায় না:

  1. আইনি ভুল:
    • দলিলে যদি কোনো আইনি ভুল থাকে, তা সংশোধন দলিলের মাধ্যমে সংশোধন করা সম্ভব নয়।
    • যেমন: দলিলের বৈধতা নিয়ে কোনো সমস্যা, দলিলের আইনগত শর্তাবলী ইত্যাদি।
  2. মৌলিক পরিবর্তন:
    • দলিলের মৌলিক প্রকৃতি বা বিষয়বস্তুর কোনো পরিবর্তন সংশোধন দলিলের মাধ্যমে করা যাবে না।
    • যেমন: দলিলের উদ্দেশ্য, প্রধান শর্তাবলী, মালিকানা ইত্যাদি পরিবর্তন করা যাবে না।

সংশোধন দলিলের মাধ্যমে শুধুমাত্র ছোটখাটো, অপ্রচলিত ভুলগুলো সংশোধন করা যেতে পারে যা দলিলের প্রধান শর্তাবলী বা উদ্দেশ্যে কোনো প্রভাব ফেলে না। আইনি ভুল বা মৌলিক পরিবর্তন করতে হলে পুনরায় নতুন দলিল তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

সংশোধন দলিল তৈরির প্রক্রিয়া

  1. সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে উপস্থিতি: দলিলের উভয় পক্ষকে সেই সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে যেখানে দলিলটি আগে নিবন্ধিত ছিল।
  2. আবেদন জমা: সংশোধনের আবেদন সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।
  3. সাক্ষীর প্রয়োজন: বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকে প্রত্যেকে দুটি করে সাক্ষী আনতে হবে।

ফি এবং চার্জ

  • রেজিস্ট্রেশন ফি: ১০০ টাকা (ই-ফি)
  • স্টাম্প শুল্ক: ৩০০ টাকা (১৮৯৯ সালের স্টাম্প আইনের ১ নম্বর তফশিলের ৫ নম্বর ক্রমিকে)

অতিরিক্ত প্রয়োজনীয়তা:

  1. ২০০ টাকার স্টাম্পে হলফনামা
  2. ই-ফি: ১০০ টাকা
  3. এন-ফি:
    • বাংলা: প্রতি ৩০০ শব্দে ১৬ টাকা
    • ইংরেজি: প্রতি ৩০০ শব্দে ২৪ টাকা
  4. নকলনবিশ ফি (এনএন ফি):
    • বাংলা: প্রতি ৩০০ শব্দে ২৪ টাকা
    • ইংরেজি: প্রতি ৩০০ শব্দে ৩৬ টাকা

গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য

  1. নগদে পরিশোধ: সকল ফি রেজিস্ট্রি অফিসে নগদে জমা করতে হবে।
  2. হলফনামা সংযুক্তি: সরকার নির্ধারিত হলফনামা ২০০ টাকার স্টাম্পে প্রিন্ট করে মূল দলিলের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
  3. স্টাম্প শুল্ক মওকুফ: স্টাম্প শুল্ক মওকুফের জন্য স্টাম্প আইন, ১৮৯৯ এর ১৬ ধারা মোতাবেক ২০ টাকার কোর্টফি সহ আবেদন করতে হবে। কবলা দলিল, বন্ধক দলিল এবং নিরূপণ পত্র দলিল ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে শূল্ক মওকুফ হবে না।

আইনি সম্মতি

  • সংশোধন দলিল মার্জিন: রেজিস্ট্রেশন বিধিমালা অনুযায়ী, যদি ভুল সনাক্ত হয় এবং একটি সম্পূরক দলিল নিবন্ধনের জন্য জমা দেওয়া হয়, তবে সংশোধনটি সেই রেজিস্টার বহির মার্জিনে উল্লেখ করতে হবে যেখানে মূল দলিলটি কপি করা হয়েছিল।
  • রেজিস্টারকে অবহিতকরণ: যদি মূল রেজিস্টার সদর রেকর্ড রুমে প্রেরিত হয়, তবে সংশোধনকারী সাব-রেজিস্ট্রার জেলা রেজিস্ট্রারকে প্রয়োজনীয় সংশোধনী লিখতে অনুরোধ করবেন।

আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতে দলিল সংশোধন

আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতে দলিল সংশোধন করা যেতে পারে। এটি করার জন্য সংশোধন মামলার প্রয়োজন হতে পারে।

দলিল সংশোধনের বিকল্প প্রতিকার

মামলা দায়ের না করেও দলিল সংশোধনের কিছু বিকল্প উপায় আছে:

  1. আত্মরক্ষায় দাবী উপস্থাপন: যদি অন্য কেউ দখল উদ্ধারের মামলা করে, সেই মামলায় আত্মরক্ষার জন্য দলিল সংশোধনের দাবি উপস্থাপন করা যায়।
  2. রিডেমশন মামলা: রিডেমশনের মামলায় দলিল সংশোধনের প্রশ্ন উত্থাপন করা যায়।
  3. সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলা: দলিল সংশোধনের মামলা ছাড়াই সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলা করা যায়।
  4. দখল স্থায়ীকরণের ডিক্রী: দখল স্থায়ীকরণের ডিক্রির জন্য মামলা দায়ের করা যায়।
  5. স্বত্ব ঘোষণার মামলা: যদি দলিল সংশোধনের মামলা তামাদিতে বারিত হয়, তবে স্বত্ব ঘোষণার মামলা দায়ের করা যেতে পারে [36 DLR 337]।

প্রমাণের দায়িত্ব

দলিল সংশোধনের মামলায় প্রতারণা বা পারস্পরিক ভুল প্রমাণের দায়িত্ব সেই পক্ষের উপর বর্তায়, যে পক্ষ দলিল সংশোধনের প্রার্থনা করে। এই প্রমাণের ভার কঠোরভাবে সংশোধন দাবীকারী পক্ষের উপর থাকে।

তামাদির মেয়াদ

দলিল সংশোধনের জন্য মামলা প্রতারণা বা পারস্পরিক ভুল সম্পর্কে অবগত হওয়ার ৩ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

নাম পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রয়োজন

কখনো কখনো নাম পরিবর্তন বা সংশোধন করার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন, আপনি চাইছেন কাগজে-কলমে এত দিন যে নামে পরিচিত হয়েছেন, তা পরিবর্তন করতে। এজন্য আপনার সব সনদপত্র, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম পরিবর্তন করতে হবে। এ প্রক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে জরুরি এবং বাধ্যতামূলক হচ্ছে হলফনামা সম্পাদন করা।

হলফনামা সম্পাদন

নাম পরিবর্তন বা সংশোধনের জন্য প্রথমে নোটারী পাবলিক আইনজীবীর মাধ্যমে একটি হলফনামা সম্পাদন করতে হবে। এতে আপনার পূর্ণ নাম-ঠিকানা, বাবা এবং মায়ের নাম, জাতীয়তা, বয়স, পেশা, ধর্ম ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে। হলফনামায় স্পষ্টভাবে আগের নাম এবং নতুন নাম উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া কোন সনদপত্রে, পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রে নতুন নাম ব্যবহার করবেন তা হলফনামায় উল্লেখ থাকতে হবে।

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া

হলফনামা সম্পাদন করার পর দৈনিক পত্রিকায় একটি বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এছাড়া হলফকারীকে হলফনামার সঙ্গে পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি দিতে হবে এবং হলফনামায় স্বাক্ষর করতে হবে। হলফনামা ২০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদন করতে হবে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নাম পরিবর্তন

হলফনামা সম্পাদন এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নাম পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা দপ্তরে আবেদন করতে হবে এবং হলফনামার কপি সংযুক্ত করতে হবে।

দলিল সংশোধনের প্রক্রিয়া

জমি রেজিস্ট্রির পর যদি দলিলে দাগ, খতিয়ান বা নামের ছোটখাটো ভুল ধরা পড়ে এবং দলিলের মূল কাঠামো বা স্বত্বের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার বরাবরে আবেদন করা যাবে। সাব-রেজিস্ট্রার এই ধরনের ছোটখাটো ভুল সংশোধন করতে পারেন। এটাকে ভ্রম সংশোধনী দলিল বলা হয়।

রেজিস্ট্রেশন বিধিমালা অনুযায়ী সংশোধন

রেজিস্ট্রেশন বিধিমালার ৭৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রেজিস্ট্রিকৃত বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য গৃহীত দলিলে ভুল-ত্রুটি থাকলে সংশোধনের জন্য মূল দলিল বা অবিকল নকলসহ দাখিল করা হলে, সাব-রেজিস্টার মূল দলিলের মার্জিনে সংশোধনের বিষয়ে একটি টীকা লিখবেন।

রেজিস্ট্রেশন বিধিমালার ৭৪ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সদর রেকর্ড রুমে প্রেরিত মূল দলিলের সংশোধনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রার জেলা রেজিস্ট্রারকে তার নিজ স্বাক্ষরে সংশোধনী সংক্রান্ত টীকা লেখার জন্য পত্র লিখবেন।

সংশোধন খরচ

ভ্রম সংশোধন দলিলের রেজিস্ট্রি খরচ হলো:

  • রেজিস্ট্রেশন ফি: ১০০ টাকা
  • স্ট্যাম্প শুল্ক: ৩০০ টাকা
  • হলফনামা: ২০০ টাকার স্ট্যাম্পে
  • এন-ফি: বাংলায় প্রতি ৩০০ শব্দের জন্য ১৬ টাকা এবং ইংরেজি ভাষায় ২৪ টাকা

স্ট্যাম্প শুল্ক মওকুফ চাইলে স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯ এর ১৬ ধারা মোতাবেক ২০ টাকার কোর্টফি সহ আবেদন করতে হবে।

উপসংহার

ভুল সংশোধন দলিলের মাধ্যমে নিবন্ধিত দলিলের ত্রুটি সংশোধন করে সম্পত্তি সম্পর্কিত নথির সঠিকতা ও বৈধতা নিশ্চিত করা হয়। যথাযথ পদ্ধতি ও নিয়মাবলী অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করুন।

নিবন্ধিত দলিল সংশোধন সংক্রান্ত প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

সংশোধন দলিল কী?

যখন নিবন্ধিত দলিলে কোনো ভুল বা ত্রুটি পাওয়া যায়, তখন এটি সংশোধন করার জন্য একটি সংশোধন দলিল তৈরি করা যেতে পারে। এই দলিলকে “ভ্রম সংশোধনী দলিল” বলা হয়, যা পূর্ববর্তী দলিলের করণিক ভুল বা সৎ বিশ্বাসের ভুল সংশোধন করে। এতে উভয় পক্ষের সম্মতি ও উপস্থিতি প্রয়োজন।

সংশোধনের সময়সীমা কি?

সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। দলিলের যেকোনো পক্ষ ভুল লক্ষ্য করলে, তা অন্য পক্ষকে জানিয়ে দ্রুত সংশোধন করা উচিত।

কোন ধরণের ভুল সংশোধন করা যায়?

  • অনিচ্ছাকৃত বানান ত্রুটি: নাম, ঠিকানা, সম্পত্তির বিবরণ ইত্যাদির বানান ভুল।
  • টাইপিং ত্রুটি: সংখ্যাগত ভুল, তারিখের ভুল, শব্দের ভুল।
  • সম্পত্তির বিবরণে ভুল: সম্পত্তির সঠিক বিবরণ না দিলে বা ভুল বিবরণ।

কোন ধরণের ভুল সংশোধন করা যায় না?

  • আইনি ভুল: দলিলের বৈধতা বা আইনগত শর্তাবলী সংক্রান্ত ভুল।
  • মৌলিক পরিবর্তন: দলিলের উদ্দেশ্য, প্রধান শর্তাবলী, মালিকানা পরিবর্তন।

সংশোধন দলিল তৈরির প্রক্রিয়া কী?

  1. সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতি।
  2. সংশোধনের আবেদন সহ নথি জমা।
  3. বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাক্ষী আনতে হবে।

সংশোধন দলিলের খরচ কত?

  • রেজিস্ট্রেশন ফি: ১০০ টাকা
  • স্ট্যাম্প শুল্ক: ৩০০ টাকা
  • ২০০ টাকার স্টাম্পে হলফনামা

স্ট্যাম্প শুল্ক মওকুফের প্রক্রিয়া কী?

২০ টাকার কোর্টফি সহ স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯ এর ১৬ ধারা মোতাবেক আবেদন করতে হবে।

সংশোধন দলিল কী?

সংশোধন দলিল, বা “ভ্রম সংশোধনী দলিল,” নিবন্ধিত দলিলে ভুল বা ত্রুটি সংশোধনের জন্য তৈরি করা হয়। এতে উভয় পক্ষের সম্মতি ও উপস্থিতি প্রয়োজন।

দলিল সংশোধনের সময়সীমা কী?

দলিল সংশোধনের মামলা প্রতারণা বা পারস্পরিক ভুল সম্পর্কে অবগত হওয়ার ৩ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

দলিল সংশোধনের প্রক্রিয়া কী?

জমি রেজিস্ট্রির পর যদি দলিলে দাগ, খতিয়ান বা নামের ছোটখাটো ভুল ধরা পড়ে এবং দলিলের মূল কাঠামো বা স্বত্বের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার বরাবরে আবেদন করা যাবে। সাব-রেজিস্ট্রার এই ধরনের ছোটখাটো ভুল সংশোধন করতে পারেন। এটাকে ভ্রম সংশোধনী দলিল বলা হয়।

রেজিস্ট্রেশন বিধিমালা অনুযায়ী সংশোধন কীভাবে হয়?

রেজিস্ট্রেশন বিধিমালার ৭৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রেজিস্ট্রিকৃত বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য গৃহীত দলিলে ভুল-ত্রুটি থাকলে সংশোধনের জন্য মূল দলিল বা অবিকল নকলসহ দাখিল করা হলে, সাব-রেজিস্টার মূল দলিলের মার্জিনে সংশোধনের বিষয়ে একটি টীকা লিখবেন।

সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দলিল কি কি?

  • সংশোধন আবেদনপত্র
  • মূল দলিল বা অবিকল নকল
  • ২০০ টাকার স্টাম্পে হলফনামা

সংশোধন দলিলের জন্য আদালতের আদেশ কীভাবে প্রয়োজন?

আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতে দলিল সংশোধনের জন্য সংশোধন মামলার প্রয়োজন হতে পারে।