তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৫ কী বলে এবং এটি কীভাবে মামলার তামাদি সময় গণনায় প্রভাব ফেলে?

🔹 ভূমিকা

তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৫ (Section 15) এমন কিছু পরিস্থিতি নির্ধারণ করে যেখানে একজন ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে অক্ষম হন এবং সেই সময় তামাদি গণনার বাইরে রাখা হয়।

এই ধারা নিশ্চিত করে যে, যদি কোনো কারণে মামলার সময় গণনা করা সম্ভব না হয়—যেমন আদালতের নিষেধাজ্ঞা (injunction) বা মামলা দায়েরের ওপর কোনো বাধা—তাহলে ওই সময় বাদ দিয়ে তামাদি সময় গণনা করা হবে।


🔹 ধারা ১৫-এর মূল বক্তব্য

(১) ধারা ১৫-এর আইনি সংজ্ঞা

🔍 আইনি বিধান:

“যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মামলা দায়ের করতে আইনত বাধাপ্রাপ্ত হন, তবে সেই সময়কাল বাদ দিয়ে তামাদি সময় গণনা করা হবে।”

কোনো আদালত যদি মামলা দায়েরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, তবে সেই সময় বাদ যাবে।
সরকারি আদেশ বা আইনগত বাধার কারণে মামলা দায়ের সম্ভব না হলে, সেই সময়ও বাদ যাবে।
এটি নিশ্চিত করে যে কেউ আইনি প্রতিবন্ধকতার কারণে তার অধিকার হারাবে না।


(২) ধারা ১৫-এর শর্তাবলী

  • (ক) মামলা দায়েরের সময় আইনগত বাধার কারণে বিলম্বিত হতে হবে।
  • (খ) আদালত যদি কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তবে সেই নিষেধাজ্ঞার সময় বাদ দেওয়া হবে।
  • (গ) সরকারী আদেশ বা অন্য কোনো বাধা যদি মামলা দায়েরের পথে আসে, তবে সেই সময়ও বাদ যাবে।
  • (ঘ) মামলাকারী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করেন, তবে এই ধারা প্রযোজ্য হবে না।

(৩) ধারা ১৫ কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

(ক) আদালতের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে
যদি আদালত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তাহলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাদ দিয়ে তামাদি গণনা করা হবে।

(খ) সরকারি আদেশের কারণে মামলা দায়ের সম্ভব না হলে
যদি কোনো সরকারী আদেশের ফলে মামলা দায়ের করা সম্ভব না হয়, তাহলে ওই সময় বাদ দেওয়া হবে।

(গ) আইনি প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে
যদি কোনো নির্দিষ্ট কারণে মামলা দায়েরের পথ বন্ধ থাকে, তবে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে।

এই ধারা প্রযোজ্য হবে না যদি মামলাকারী ইচ্ছাকৃতভাবে মামলা দায়ের না করেন।
ব্যক্তিগত অসুবিধা বা অবহেলার কারণে দেরি হলে এটি প্রযোজ্য হবে না।


📌 উদাহরণ:
একটি সম্পত্তি বিরোধ মামলার জন্য তামাদি সময় ৩ বছর। যদি আদালত ১ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাহলে সেই ১ বছর বাদ দিয়ে নতুন করে সময় গণনা শুরু হবে।

সরকার যদি কোনো বিশেষ আইনের অধীনে ৬ মাসের জন্য মামলা দায়েরের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে, তাহলে ওই ৬ মাস বাদ দিয়ে তামাদি সময় গণনা হবে।

একজন ব্যক্তি কোনো সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান, কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি ২ বছর অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। সেই ২ বছর তামাদি সময়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না।


🔹 ধারা ১৫-এর প্রভাব

(১) আইনি বাধার কারণে কেউ তার অধিকার হারাবে না
যদি আদালত বা সরকার কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়, তবে সেটি মামলাকারীর জন্য ক্ষতিকর হবে না।

(২) মামলার তামাদি সময় গণনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়
আইনি বাধার কারণে যে সময় নষ্ট হয়, তা বাদ দিয়ে প্রকৃত সময় গণনা করা হয়।

(৩) মামলাকারীর জন্য সুবিচার নিশ্চিত করে
আইনগত কারণে কেউ মামলা দায়ের করতে না পারলে, তার অধিকার রক্ষা করা হয়।

(৪) আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে সহায়তা করে
আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা সরকারি বিধিনিষেধ আইনগতভাবে স্বীকৃত হয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।


🔹 উপসংহার

🔹 ধারা ১৫-এর মূল বক্তব্য:

কোনো আইনগত বাধার কারণে মামলা দায়ের করা সম্ভব না হলে, সেই সময় বাদ দিয়ে তামাদি সময় গণনা করা হবে।
এটি নিশ্চিত করে যে কেউ আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা সরকারি আদেশের কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে না।
তবে, এটি কেবলমাত্র আইনগত বাধা থাকলে প্রযোজ্য হবে, ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে নয়।