🔹 ভূমিকা
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৪ (Section 14) সেই সময়কে বাদ দেওয়ার অনুমতি দেয়, যা একজন ব্যক্তি ভুলভাবে একটি ভুল আদালতে বা ভুল বিচারিক ফোরামে মামলা পরিচালনা করতে ব্যয় করেছেন।
এটি নিশ্চিত করে যে, যদি কোনো ব্যক্তি ভুল আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং আদালত এখতিয়ার না থাকার কারণে সেটি খারিজ করে দেয়, তবে নতুন করে সঠিক আদালতে মামলা দায়েরের সময় গণনায় ভুল আদালতে কাটানো সময় বাদ দেওয়া হবে।
🔹 ধারা ১৪-এর মূল বক্তব্য
(১) ধারা ১৪-এর আইনি সংজ্ঞা
🔍 আইনি বিধান:
“যদি কোনো ব্যক্তি ভুল আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং আদালতের এখতিয়ার না থাকার কারণে সেটি খারিজ হয়, তবে সঠিক আদালতে পুনরায় মামলা করার সময়সীমা গণনার ক্ষেত্রে ভুল আদালতে ব্যয়িত সময় বাদ দেওয়া হবে।”
✅ যদি ভুল আদালতে মামলা হয়, তবে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে।
✅ মামলাকারী তার মামলার অধিকার হারাবে না।
✅ এটি আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত বিভ্রান্তি দূর করতে সহায়তা করে।
(২) ধারা ১৪-এর শর্তাবলী
- (ক) মামলাটি অবশ্যই ভুল আদালতে দায়ের হতে হবে।
- (খ) আদালত যদি এখতিয়ারগত কারণে মামলা খারিজ করে, তবে এই ধারা প্রযোজ্য হবে।
- (গ) ভুল আদালতে ব্যয়িত সময় বাদ দিয়ে তামাদি সময় গণনা করা হবে।
- (ঘ) মামলাকারীর অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে এই ধারা প্রযোজ্য হবে না।
(৩) ধারা ১৪ কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
✅ (ক) ভুল আদালতে মামলা দায়ের হলে
➡ যদি কেউ দেওয়ানি আদালতে মামলা করেন, কিন্তু সেটি শ্রম আদালতে দায়ের করা উচিত ছিল, তাহলে দেওয়ানি আদালতে ব্যয়িত সময় বাদ যাবে।
✅ (খ) ভুল বিচারিক ফোরামে মামলা হলে
➡ যদি কেউ আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন, অথচ সেটি সরাসরি উচ্চ আদালতে দায়ের করা উচিত ছিল, তবে এই ধারা প্রযোজ্য হবে।
❌ এই ধারা প্রযোজ্য হবে না যদি মামলাকারী ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল আদালতে মামলা করে সময় নষ্ট করেন।
📌 উদাহরণ:
➡ একটি সম্পত্তি বিরোধ মামলার জন্য তামাদি সময় ৩ বছর। মামলাকারী ভুলবশত দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করেন, অথচ এটি রাজস্ব আদালতে দায়ের করা উচিত ছিল। দেওয়ানি আদালতে ব্যয়িত সময় বাদ দিয়ে রাজস্ব আদালতে নতুন করে মামলা দায়েরের সুযোগ থাকবে।
➡ একজন ব্যক্তি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন শ্রম আদালতে, কিন্তু আদালত জানায় এটি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত। শ্রম আদালতে ব্যয়িত সময় বাদ দিয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে নতুন করে মামলা দায়ের করা যাবে।
🔹 ধারা ১৪-এর প্রভাব
✅ (১) আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখে
➡ যদি কেউ ভুল আদালতে মামলা করে, তবে সেই সময় বাদ দিয়ে সঠিক আদালতে মামলা দায়েরের সুযোগ দেয়।
✅ (২) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে
➡ একজন ব্যক্তি শুধুমাত্র আদালতের এখতিয়ারগত বিভ্রান্তির কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে না।
✅ (৩) মামলার যথাযথ স্থান নির্ধারণে সহায়তা করে
➡ আইনজীবীরা ভুল আদালতে মামলা দায়ের করলে, এটি সংশোধন করার সুযোগ দেয়।
✅ (৪) মামলা দায়েরের সময় ন্যায্যতা বজায় রাখে
➡ মামলাকারীর ভুল আদালতে কেটে যাওয়া সময় তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না।
🔹 উপসংহার
🔹 ধারা ১৪-এর মূল বক্তব্য:
✅ একজন ব্যক্তি যদি ভুল আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং সেটি এখতিয়ারগত কারণে খারিজ হয়, তবে পুনরায় মামলা দায়েরের সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভুল আদালতে ব্যয়িত সময় বাদ দেওয়া হবে।
✅ এটি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে এবং আদালতের এখতিয়ার সংক্রান্ত জটিলতা দূর করে।
✅ তবে, এটি শুধুমাত্র আদালতের এখতিয়ারগত কারণে খারিজ হওয়া মামলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।