তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৩ কী বলে এবং এটি কীভাবে মামলার উপর প্রভাব ফেলে?

🔹 ভূমিকা

তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৩ (Section 13) এমন পরিস্থিতি নির্ধারণ করে যেখানে একটি মামলা নির্ধারিত তামাদি সময়ের মধ্যে দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু আদালতের এখতিয়ারগত কারণে (lack of jurisdiction) তা খারিজ হয়ে যায়।

এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট তামাদি সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করে, কিন্তু আদালতের এখতিয়ারগত ত্রুটির কারণে সেটি খারিজ হয়ে যায়, তবে পুনরায় মামলা করার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মামলার সময় গণনায় বাদ দেওয়া হবে।

এটি নিশ্চিত করে যে, একজন ব্যক্তি শুধুমাত্র আদালতের এখতিয়ারের ভুল পছন্দের কারণে তার মামলা দায়েরের অধিকার হারাবে না।


🔹 ধারা ১৩-এর মূল বক্তব্য

(১) ধারা ১৩-এর আইনি সংজ্ঞা

🔍 আইনি বিধান:

“যদি কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত তামাদি সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করে, কিন্তু আদালতের এখতিয়ারগত কারণে মামলা খারিজ হয়ে যায়, তবে পরবর্তী মামলার তামাদি সময় গণনার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মামলার সময় বাদ দেওয়া হবে।”

যদি প্রথম মামলা যথাসময়ে দায়ের করা হয়, তবে এটি দ্বিতীয় মামলার তামাদি গণনায় প্রভাব ফেলবে।
আদালতের এখতিয়ারের ভুল পছন্দের কারণে মামলা দায়েরের অধিকার নষ্ট হবে না।
এর ফলে মামলাকারী আইনি স্বচ্ছতা পায় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।


(২) ধারা ১৩-এর শর্তাবলী

  • (ক) প্রথম মামলাটি নির্ধারিত তামাদি সময়ের মধ্যে দায়ের হতে হবে।
  • (খ) প্রথম মামলাটি শুধুমাত্র আদালতের এখতিয়ারগত কারণে খারিজ হতে হবে।
  • (গ) পুনরায় মামলা দায়েরের সময় তামাদি আইন অনুযায়ী নতুন করে সময় গণনা করা হবে না, বরং প্রথম মামলার সময় বাদ দেওয়া হবে।

(৩) ধারা ১৩ কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

(ক) ভুল আদালতে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে
যদি একজন ব্যক্তি দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করেন, কিন্তু এটি কর্মধারা আদালতে দায়ের করা উচিত ছিল, তবে দেওয়ানি আদালতে দায়ের করা সময় বাদ যাবে।

(খ) আদালতের এখতিয়ারের অভাবজনিত কারণে মামলা খারিজ হলে
যদি মামলা দায়েরের পর আদালত বলে যে এটি তাদের এখতিয়ারের বাইরে, তবে পুনরায় মামলা করার সুযোগ থাকবে।

এই ধারা মামলাকারীর অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত দেরির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
যদি আদালত মামলাটি এখতিয়ারগত কারণে নয়, বরং মামলাকারীর দোষে খারিজ করে, তবে এটি প্রযোজ্য হবে না।


📌 উদাহরণ:
একটি সম্পত্তি বিরোধ মামলার জন্য তামাদি সময় ৩ বছর। মামলাকারী দেওয়ানি আদালতে মামলা করেন, কিন্তু পরে জানা যায় যে এটি রাজস্ব আদালতে দায়ের করা উচিত ছিল। দেওয়ানি আদালতে যে সময় কেটেছে, তা তামাদি গণনায় ধরা হবে না।

একজন ব্যক্তি শ্রম আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেন, কিন্তু আদালত জানায় যে এটি দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। প্রথম মামলার সময় বাদ দিয়ে নতুন মামলার সময় গণনা হবে।


🔹 ধারা ১৩-এর প্রভাব

(১) আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখে
আদালতের এখতিয়ারের ভুলের কারণে কেউ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে না।

(২) মামলাকারীর অধিকার রক্ষা করে
কোনো ব্যক্তি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করে, তবে আদালতের ভুলের কারণে সে তার অধিকার হারাবে না।

(৩) মামলার যথাযথ স্থান নির্ধারণে সহায়তা করে
আইনজীবীরা ভুল আদালতে মামলা দায়ের করলে, এটি সংশোধন করার সুযোগ দেয়।

(৪) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে
কোনো মামলাকারী শুধুমাত্র ভুল আদালতে মামলা করার কারণে বিচার পেতে ব্যর্থ হবে না।


🔹 উপসংহার

🔹 ধারা ১৩-এর মূল বক্তব্য:

একজন ব্যক্তি যদি ভুল আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং সেটি এখতিয়ারগত কারণে খারিজ হয়, তবে পুনরায় মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মামলার সময় বাদ দেওয়া হবে।
এটি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে এবং আদালতের এখতিয়ার সংক্রান্ত জটিলতা দূর করে।
তবে, এটি শুধুমাত্র আদালতের এখতিয়ারজনিত কারণে খারিজ হওয়া মামলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।