তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১১ কী বলে এবং এটি কীভাবে মামলার উপর প্রভাব ফেলে?

🔹 ভূমিকা

তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১১ (Section 11) একাধিক আইনি ব্যবস্থার অধীনে মামলা দায়েরের তামাদি সময়সীমা নির্ধারণ করে।

এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির একই মামলা দুই বা ততোধিক ভিন্ন আইনি ব্যবস্থায় (jurisdictions) দায়েরের সুযোগ থাকে, তবে সে যে আইনি ব্যবস্থায় মামলা করবে, সেটির তামাদি সময়সীমাই প্রযোজ্য হবে।

এই বিধান নিশ্চিত করে যে, একজন ব্যক্তি বিভিন্ন আদালতের তামাদি নিয়মের সুবিধা নেওয়ার জন্য কৌশলীভাবে মামলার স্থান পরিবর্তন করতে না পারে।


🔹 ধারা ১১-এর মূল বক্তব্য

(১) ধারা ১১-এর আইনি সংজ্ঞা

🔍 আইনি বিধান:

“যদি কোনো ব্যক্তি একটি মামলা এমন একটি আদালতে দায়ের করে, যেখানে ভিন্ন তামাদি সময়সীমা প্রযোজ্য, তবে মামলার তামাদির সময়সীমা সেই আদালতের আইনের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।”

যে আদালতে মামলা করা হবে, তার তামাদি আইনই প্রযোজ্য হবে।
একজন ব্যক্তি বিভিন্ন আদালতের তামাদি সময়সীমার সুবিধা নিতে পারবে না।
এটি আইনি স্বচ্ছতা ও সামঞ্জস্য বজায় রাখে।


(২) ধারা ১১-এর শর্তাবলী

  • (ক) মামলাটি এমন একটি বিষয় হতে হবে, যা একাধিক আইনি ব্যবস্থায় দায়েরের যোগ্য।
  • (খ) যে আদালতে মামলা করা হবে, সেই আদালতের তামাদি সময়সীমাই প্রযোজ্য হবে।
  • (গ) ভিন্ন আদালতের তামাদি বিধান অনুসরণ করা যাবে না।

(৩) ধারা ১১ কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

(ক) ভিন্ন আদালতে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে
যদি কোনো মামলা বাংলাদেশ এবং ভারতে দায়েরের যোগ্য হয়, তবে বাংলাদেশে দায়ের হলে বাংলাদেশের তামাদি আইনই প্রযোজ্য হবে।

(খ) আন্তর্জাতিক বা বহুমাত্রিক আইনি বিষয়ের ক্ষেত্রে
যদি কোনো বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মামলা দায়ের করা হয়, তবে বাংলাদেশি তামাদি আইনই কার্যকর হবে।

এই ধারা ফৌজদারি মামলার জন্য প্রযোজ্য নয়, এটি কেবল দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।


📌 উদাহরণ:
একটি চুক্তি লঙ্ঘনের মামলা ভারতের আদালতে করা যায়, আবার বাংলাদেশেও করা যায়। যদি বাংলাদেশে মামলা করা হয়, তবে ভারতীয় তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে না, বরং বাংলাদেশের তামাদি আইনই কার্যকর হবে।

একজন বিদেশি নাগরিক যদি বাংলাদেশে সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন, তবে তার নিজের দেশের তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে না, বরং বাংলাদেশি তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে।


🔹 ধারা ১১-এর প্রভাব

(১) আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখে
একটি নির্দিষ্ট বিচারব্যবস্থার তামাদি বিধানই প্রযোজ্য হয়, ফলে বিভ্রান্তি এড়ানো যায়।

(২) আইনি জটিলতা কমায়
একই বিষয় ভিন্ন আদালতে দায়ের হলে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়, তা এড়ানো সম্ভব হয়।

(৩) মামলার অপব্যবহার প্রতিরোধ করে
অনেকে সুবিধাজনক তামাদি নিয়ম অনুসরণ করতে ভিন্ন আদালতে মামলা করতে চায়, যা এই ধারা প্রতিরোধ করে।

(৪) আন্তর্জাতিক ও বহুমাত্রিক আইন প্রয়োগ সহজ করে
যেখানে মামলা দায়ের করা হবে, সেই অঞ্চলের তামাদি বিধান অনুসরণ করাই বাধ্যতামূলক হয়।


🔹 উপসংহার

🔹 ধারা ১১-এর মূল বক্তব্য:

একই মামলা ভিন্ন আইনি ব্যবস্থায় দায়ের করা গেলে, যে আদালতে মামলা হবে, তার তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে।
এটি আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখে এবং আইনের অপব্যবহার প্রতিরোধ করে।
আদালত ভিন্ন আইনি ব্যবস্থার তামাদি আইনকে গ্রহণ করবে না।
এটি আন্তর্জাতিক ও বহুমাত্রিক আইনি ইস্যু সহজ করে।