তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৭ কী বলে এবং এটি কীভাবে মামলার উপর প্রভাব ফেলে?

🔹 ভূমিকা

তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৭ (Section 7) হলো একাধিক অযোগ্য ব্যক্তির (Multiple Disabilities) ক্ষেত্রে তামাদি গণনার নিয়ম

এই ধারা বলছে, যদি কোনো ব্যক্তি যখন মামলা দায়েরের অধিকার লাভ করে তখন একাধিক আইনি অযোগ্যতায় (Disabilities) ভোগে, তবে সব অযোগ্যতা দূর না হওয়া পর্যন্ত তামাদির সময়সীমা স্থগিত থাকবে।

এটি বিশেষত নাবালক ও মানসিক অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।


🔹 ধারা ৭-এর মূল বক্তব্য

(১) ধারা ৭-এর আইনি সংজ্ঞা

🔍 আইনি বিধান:

“যদি একজন ব্যক্তি যখন মামলা দায়েরের অধিকার লাভ করে তখন একাধিক অযোগ্যতায় (Disabilities) ভুগে, তবে সব অযোগ্যতা দূর না হওয়া পর্যন্ত তামাদির সময় গণনা শুরু হবে না।”

এটি একাধিক আইনি অযোগ্যতা (Multiple Disabilities) থাকলে প্রযোজ্য।
যতক্ষণ না সব অযোগ্যতা দূর হয়, ততক্ষণ তামাদি স্থগিত থাকবে।


(২) ধারা ৭-এর শর্তাবলী

  • (ক) এটি একাধিক অযোগ্য ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য।
  • (খ) যখন একজন ব্যক্তি মামলা করার অধিকার লাভ করে, তখন যদি তার একাধিক অযোগ্যতা থাকে, তবে সব অযোগ্যতা দূর না হওয়া পর্যন্ত তামাদি শুরু হবে না।
  • (গ) তামাদির স্থগিতকরণ সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

(৩) ধারা ৭ কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

(ক) একাধিক অযোগ্যতা থাকলে
যদি কোনো ব্যক্তি নাবালক এবং মানসিক অসুস্থ হয়, তবে দুটি অযোগ্যতা দূর না হওয়া পর্যন্ত তামাদির সময় গণনা শুরু হবে না।

(খ) উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির ক্ষেত্রে
যদি একজন নাবালকের পিতার সম্পত্তির মামলা করার অধিকার থাকে, কিন্তু সে নাবালক অবস্থায় মারা যায় এবং তার উত্তরাধিকারীও নাবালক হয়, তবে নতুন উত্তরাধিকারীর প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তামাদি চলবে না।

এটি যদি একজন ব্যক্তির একটিমাত্র অযোগ্যতা থাকে, তবে ধারা ৬ প্রযোজ্য হবে, ধারা ৭ নয়।


📌 উদাহরণ:
কোনো ব্যক্তির বয়স ১০ বছর এবং সে মানসিক অসুস্থ। যদি সে ১৮ বছর বয়সে সুস্থ হয়, তবে তার ১৮ বছর বয়স থেকে তামাদি গণনা শুরু হবে।

একজন ব্যক্তি ১৫ বছর বয়সে মামলা করার অধিকার পায়, কিন্তু সে মানসিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। যদি সে ২৫ বছর বয়সে সুস্থ হয়, তবে তার ২৫ বছর থেকে তামাদি গণনা শুরু হবে।


🔹 ধারা ৭-এর প্রভাব

(১) ন্যায়বিচারের সুযোগ বৃদ্ধি করে
যদি কেউ একাধিক আইনি অযোগ্যতায় ভোগে, তবে সে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না।

(২) তামাদি গণনার ন্যায্যতা বজায় রাখে
আইন নিশ্চিত করে যে, কেউ অযোগ্য অবস্থায় থাকলে তার বিরুদ্ধে তামাদি কার্যকর হবে না।

(৩) প্রতারণা প্রতিরোধ করা হয়
আদালত নিশ্চিত করে যে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধারা ব্যবহার করে মামলা দেরি না করে।

(৪) উত্তরাধিকারী ও অসহায় ব্যক্তিদের রক্ষা করে
যদি পিতার মৃত্যুর পর সন্তানের পক্ষে মামলা দায়েরের সময়সীমা পার হয়ে যায়, তবে ধারা ৭ তাকে সুরক্ষা দেয়।


🔹 উপসংহার

🔹 ধারা ৭-এর মূল বক্তব্য:

যদি একাধিক আইনি অযোগ্যতা থাকে, তবে সব অযোগ্যতা দূর না হওয়া পর্যন্ত তামাদির গণনা শুরু হবে না।
এটি মূলত নাবালক, মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি বা বিশেষ পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য।
এই বিধান প্রতারণা প্রতিরোধ করতে সতর্কতা সহকারে প্রয়োগ করা হয়।
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত এই বিধান ব্যবহার করে।