🔹 ভূমিকা
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬ (Section 6) হলো বিষয়-অযোগ্য ব্যক্তির (Disability) কারণে মামলার সময়সীমা স্থগিত রাখার বিধান।
এই ধারা বলছে, যদি কোনো ব্যক্তি মানসিক অসুস্থতা, অপ্রাপ্তবয়স্কতা (নাবালক), বা অন্য কোনো আইনগত অযোগ্যতার কারণে মামলা করতে না পারে, তাহলে তার তামাদির সময়সীমা ওই অযোগ্যতা দূর না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
এটি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, যাতে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তি তার আইনি অধিকার হারিয়ে না ফেলে।
🔹 ধারা ৬-এর মূল বক্তব্য
(১) ধারা ৬-এর আইনি সংজ্ঞা
🔍 আইনি বিধান:
“যদি কোনো ব্যক্তি, যখন তার পক্ষে মামলা দায়ের করা আবশ্যক, তখন নাবালক, মানসিক ভারসাম্যহীন বা অন্য কোনো অযোগ্যতায় ভুগে, তবে তার পক্ষে তামাদি শুরু হবে না যতক্ষণ না সে সুস্থ বা যোগ্য হয়।”
✅ এই ধারা শুধুমাত্র ব্যক্তির বিষয়-অযোগ্যতার কারণে প্রযোজ্য।
✅ একবার অযোগ্যতা দূর হলে, তামাদির সময়সীমা গণনা শুরু হবে।
(২) ধারা ৬-এর শর্তাবলী
- (ক) এটি ব্যক্তিগত অযোগ্যতার কারণে মামলা করার সময়সীমা স্থগিত রাখে।
- (খ) অযোগ্য ব্যক্তি যখন সুস্থ হবে বা প্রাপ্তবয়স্ক হবে, তখন থেকে তামাদির সময় গণনা শুরু হবে।
- (গ) সর্বোচ্চ সময়সীমা সাধারণত ৩ বছর (ধারা ৭)।
(৩) ধারা ৬ কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
✅ (ক) নাবালকের ক্ষেত্রে (Minority)
➡ যদি কোনো ব্যক্তি যখন মামলা করার অধিকার পায়, তখন সে যদি নাবালক হয়, তবে তার বয়স ১৮ (বা অভিভাবক থাকলে ২১) বছর না হওয়া পর্যন্ত তামাদি গণনা শুরু হবে না।
✅ (খ) মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে (Mental Illness)
➡ যদি একজন ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়, তবে সে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তামাদি গণনা শুরু হবে না।
✅ (গ) অন্য কোনো আইনি অযোগ্যতার ক্ষেত্রে (Other Legal Disability)
➡ যদি কোনো ব্যক্তি কারাবন্দি থাকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আটকে যায় বা কোনো জরুরি আইনি বাধার সম্মুখীন হয়, তবে আদালত তামাদি স্থগিত রাখতে পারে।
📌 উদাহরণ:
➡ একটি জমির মামলা করার সময়সীমা ১২ বছর। যদি জমির মালিক মানসিক অসুস্থ হয় এবং ১০ বছর পর সুস্থ হয়, তবে তার জন্য তামাদির সময়সীমা তখন থেকে গণনা শুরু হবে।
🔹 ধারা ৬-এর প্রভাব
✅ (১) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে
➡ অযোগ্য ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষার জন্য আদালত তামাদির সময়সীমা স্থগিত রাখতে পারে।
✅ (২) তামাদি গণনা বন্ধ রাখে
➡ যতদিন পর্যন্ত অযোগ্যতা দূর না হয়, ততদিন তামাদির সময় গণনা শুরু হবে না।
✅ (৩) প্রতারণা প্রতিরোধ করতে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়
➡ আদালত নিশ্চিত করে যে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধারা ব্যবহার করে বিলম্ব না করে।
✅ (৪) আদালতের বিবেচনার সুযোগ থাকে
➡ যদি প্রয়োজন হয়, আদালত এই বিধান প্রয়োগ করে সময়সীমা বাড়াতে পারে।
🔹 উপসংহার
🔹 ধারা ৬-এর মূল বক্তব্য:
✅ নাবালক, মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি বা আইনি অযোগ্য ব্যক্তিদের জন্য তামাদির সময়সীমা স্থগিত রাখা হয়।
✅ অযোগ্যতা দূর হলে তখন থেকে তামাদি গণনা শুরু হবে।
✅ এই বিধান প্রতারণা প্রতিরোধ করতে সতর্কতা সহকারে প্রয়োগ করা হয়।
✅ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত এই বিধান ব্যবহার করে।