🔹 ভূমিকা
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৫ (Section 5) আপিল (Appeal) এবং কিছু নির্দিষ্ট আবেদন (Application) ক্ষেত্রে বিলম্ব গ্রহণযোগ্য করার সুযোগ দেয়। এটি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালতকে কিছু ক্ষেত্রে সময়সীমা শিথিল করার ক্ষমতা দেয়।
এটি প্রধানত আপিল ও নির্দিষ্ট কিছু আবেদনের জন্য প্রযোজ্য, কিন্তু সাধারণ দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে নয়।
🔹 ধারা ৫-এর মূল বক্তব্য
(১) ধারা ৫-এর আইনি সংজ্ঞা
🔍 আইনি বিধান:
“যদি আপিল বা নির্দিষ্ট আবেদনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম হয়ে যায় এবং আবেদনকারী আদালতকে যথার্থ কারণ দেখাতে পারে, তবে আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে।”
✅ এই সুযোগ শুধুমাত্র আপিল ও নির্দিষ্ট কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, মূল মামলার ক্ষেত্রে নয়।
(২) ধারা ৫-এর শর্তাবলী
- (ক) বিলম্বের জন্য যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে হবে।
- (খ) শুধুমাত্র আপিল এবং নির্দিষ্ট কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- (গ) আদালত বিবেচনার মাধ্যমে সময়সীমা শিথিল করতে পারে, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
(৩) ধারা ৫ কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
✅ (ক) আপিল (Appeal) দায়ের করতে বিলম্ব হলে
➡ যদি কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের পর আপিল করে এবং বৈধ কারণ দেখায়, তবে আদালত তা গ্রহণ করতে পারে।
✅ (খ) নির্দিষ্ট কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে
➡ যেমন পর্যালোচনা আবেদন (Review), সংশোধন আবেদন (Revision), বা আদালতের আদেশ বাতিলের আবেদন।
❌ তবে মূল দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
📌 উদাহরণ:
➡ একটি দেওয়ানি মামলায় রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। কেউ যদি অসুস্থতার কারণে ৪০ দিন পর আপিল করে এবং যথাযথ প্রমাণ দেয়, তবে আদালত তা গ্রহণ করতে পারে।
🔹 ধারা ৫-এর প্রভাব
✅ (১) ন্যায়বিচারের সুযোগ বৃদ্ধি করে
➡ অনেক সময় বৈধ কারণেই বিলম্ব হয়। ধারা ৫ আদালতকে সেই বিলম্ব গ্রহণের ক্ষমতা দেয়।
✅ (২) আইনের কঠোরতা শিথিল করে
➡ তামাদি আইনের কঠোর নিয়ম কিছু ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে, তাই ধারা ৫ একটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
✅ (৩) প্রতারণা প্রতিরোধ করতে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়
➡ আদালত শুধুমাত্র যৌক্তিক কারণ থাকলেই বিলম্ব গ্রহণ করে, অন্যথায় তা খারিজ হয়ে যায়।
✅ (৪) আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভরশীল
➡ এটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।
🔹 উপসংহার
🔹 ধারা ৫-এর মূল বক্তব্য:
✅ আপিল এবং নির্দিষ্ট কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে বিলম্ব মওকুফ করা যেতে পারে।
✅ শুধুমাত্র যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে আদালত এটি গ্রহণ করবে।
✅ এটি মূল দেওয়ানি মামলার জন্য প্রযোজ্য নয়, শুধুমাত্র আপিল ও নির্দিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
✅ এই ধারা আইনের নমনীয়তা বজায় রেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।