তামাদি আইনে “Fraud” (প্রতারণা) এর প্রভাব এবং সময় গণনার পরিবর্তন

📜 তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৮ প্রতারণার কারণে তামাদি সময় গণনার ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান প্রদান করে।

🔸 প্রতারণার সংজ্ঞা ও প্রভাব

  • যদি কোনো ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে কারও অধিকার বা মামলা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে, তাহলে নির্ধারিত তামাদি সময় (limitation period) স্বাভাবিকভাবে গণনা করা যাবে না।
  • তামাদি সময় গণনার শুরু হবে তখন থেকে, যখন ভুক্তভোগী ব্যক্তি প্রতারণার বিষয়ে জানতে পারবে।

✅ প্রতারণার কারণে সময় গণনার পরিবর্তন (Section 18 of the Limitation Act, 1908)

👉 তামাদি আইনের ধারা ১৮ অনুযায়ী, যদি প্রতারণার কারণে কেউ তার মামলা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে প্রতারণা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তামাদি সময় গণনা শুরু হবে না।

📌 মূল বিধান:
1️⃣ যদি কোনো ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে তার অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ রেখে দেয়, তাহলে তামাদি সময় গণনা বন্ধ থাকবে যতক্ষণ না প্রতারণা প্রকাশ পায়।
2️⃣ যদি কোনো প্রয়োজনীয় দলিল লুকিয়ে রাখা হয়, তাহলে তামাদি সময় শুরু হবে তখন থেকে, যখন ব্যক্তি ওই দলিল সম্পর্কে জানতে পারবে বা তা আদালতে উপস্থাপন করতে পারবে।
3️⃣ প্রতারণা করে মামলা দেরি করানোর চেষ্টা করলে, প্রতারিত ব্যক্তি প্রতারণা জানার পর মামলা দায়ের করতে পারবে।


🔸 প্রতারণার কারণে সময় গণনার পরিবর্তনের উদাহরণ

✅ (১) জমি সংক্রান্ত প্রতারণার উদাহরণ

📌 পরিস্থিতি:

  • ‘A’ তার জমি ‘B’-এর কাছে বন্ধক রাখে। পরে ‘B’ প্রতারণার মাধ্যমে জমির দলিল নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয় এবং ‘A’-কে জানায় না।
  • নির্ধারিত তামাদি সময় (১২ বছর) পার হয়ে যায়।

📌 প্রতারণার প্রভাব:

  • যদি ‘A’ পরে জানতে পারে যে তার জমি প্রতারণার মাধ্যমে ‘B’-এর নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে, তাহলে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে তখন থেকে, যখন ‘A’ প্রথমবার বিষয়টি জানতে পারে।

✅ (২) ঋণের ক্ষেত্রে প্রতারণার উদাহরণ

📌 পরিস্থিতি:

  • ‘X’ একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় এবং প্রতারণার মাধ্যমে কিছু ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ব্যাংককে বিভ্রান্ত করে।
  • ব্যাংক সময়মতো মামলা করতে না পারলে, স্বাভাবিকভাবে তামাদি সময় শেষ হয়ে যায়।

📌 প্রতারণার প্রভাব:

  • যদি ব্যাংক পরে প্রতারণার তথ্য জানতে পারে, তবে তখন থেকেই নতুন করে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে এবং ব্যাংক ঋণ আদায়ের জন্য মামলা করতে পারবে।

✅ (৩) উত্তরাধিকার সম্পর্কিত প্রতারণার উদাহরণ

📌 পরিস্থিতি:

  • কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার সম্পত্তি অন্য উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন হওয়ার কথা ছিল।
  • কিন্তু তার এক ভাই গোপনে সকল দলিল জাল করে এবং সম্পত্তি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়।
  • প্রকৃত উত্তরাধিকারী এই প্রতারণার বিষয়টি জানতেন না এবং নির্ধারিত তামাদি সময় (৩ বছর) পার হয়ে যায়।

📌 প্রতারণার প্রভাব:

  • প্রকৃত উত্তরাধিকারী যখনই জানতে পারবে যে তার সম্পত্তি প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে, তখন থেকেই নতুন করে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।

🔸 প্রতারণার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার

📌 যদি প্রতারণার কারণে মামলা দেরি হয়, তাহলে—
✔ ভুক্তভোগী আদালতে প্রতারণার প্রমাণ উপস্থাপন করে তামাদি সময় পুনঃগণনার আবেদন করতে পারে।
✔ প্রতারণার কারণে লুকিয়ে রাখা দলিলের সত্যতা প্রমাণ করলে আদালত তামাদি আইন শিথিল করতে পারে।
✔ প্রতারক ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করে, তাহলে আদালত বিশেষ ক্ষমতা বলে তামাদি আইন প্রযোজ্য না করে রায় দিতে পারে।


🔸 উপসংহার

তামাদি আইন প্রতারণার শিকার ব্যক্তির জন্য বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করে, যাতে প্রতারিত ব্যক্তি তার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
যখন প্রতারণার কারণে কেউ মামলা দায়ের করতে পারেনি, তখন তামাদি সময় গণনা শুরু হবে প্রতারণার বিষয়টি জানার সময় থেকে।
এই বিধান ব্যক্তিগত মালিকানা, ঋণ সংক্রান্ত দাবি, জমি সংক্রান্ত মামলা, এবং উত্তরাধিকার সম্পর্কিত বিরোধের ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে প্রযোজ্য।