🔹 ভূমিকা
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৩ হলো এই আইনের ভিত্তিমূলক ধারা। এটি স্পষ্টভাবে বলে যে যদি কোনো মামলা, আপিল বা আবেদন নির্ধারিত সময়সীমার পর দায়ের করা হয়, তবে আদালত সেটি খারিজ করবে, এমনকি যদি প্রতিপক্ষ পক্ষ থেকে আপত্তি না আসে তবুও।
এই ধারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে এবং আইনি কার্যক্রমকে গতিশীল রাখে।
🔹 ধারা ৩-এর মূল বক্তব্য
(১) তামাদি আইন আদালতের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে
🔍 আইনি বিধান:
“যদি তামাদির সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর কোনো মামলা দায়ের করা হয়, তবে আদালত সেটি খারিজ করবে, এমনকি যদি প্রতিপক্ষ আপত্তি না জানায় তবুও।”
✅ এটি বাধ্যতামূলক – আদালত চাইলে তামাদি মামলাকে গ্রহণ করতে পারে না।
(২) প্রতিপক্ষের আপত্তি ছাড়াই মামলা খারিজ হবে
- ধারা ৩ অনুসারে, প্রতিপক্ষ যদি তামাদি নিয়ে কিছু না বলে, তাহলেও আদালত নিজে থেকে এটি খারিজ করবে।
- সাধারণত, অনেক আইনের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ যদি কোনো বিষয়ে আপত্তি না করে, তবে আদালত সেটি বিবেচনায় নেয় না। কিন্তু তামাদি আইনের ক্ষেত্রে এটি স্বতঃসিদ্ধ (mandatory)।
📌 উদাহরণ:
➡ একজন ব্যক্তি ১০ বছর পরে ঋণের টাকা ফেরত চেয়ে মামলা করলো। প্রতিপক্ষ কিছু বলল না, কিন্তু আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলাটি খারিজ করবে।
(৩) এটি দেওয়ানি ও আপিল মামলার জন্য প্রযোজ্য
- তামাদি আইন দেওয়ানি ও আপিল সংক্রান্ত মামলাগুলোর জন্য প্রযোজ্য।
- ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।
📌 উদাহরণ:
➡ একটি জমি সংক্রান্ত মামলার সময়সীমা ১২ বছর। ১৫ বছর পর মামলা দায়ের করলে আদালত তা গ্রহণ করবে না। কিন্তু একটি খুনের মামলা ১৫ বছর পরেও দায়ের করা যাবে, কারণ ফৌজদারি আইনে তামাদি প্রযোজ্য নয়।
(৪) আদালত কোনো বিশেষ ক্ষমতায় এটি শিথিল করতে পারে না
- অনেক ক্ষেত্রে আদালত কিছু আইনি বিধান শিথিল করার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু ধারা ৩ কঠোরভাবে প্রযোজ্য।
- আদালত বিশেষ বিবেচনায় তামাদি মামলা গ্রহণ করতে পারে না, তবে ধারা ৫, ৬ ও ১৪-এর নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রয়েছে (যেমন ভুল আদালতে মামলা করা হলে বা অসুস্থতার কারণে দেরি হলে)।
📌 উদাহরণ:
➡ একজন ব্যক্তি ভুলক্রমে একটি দেওয়ানি মামলা ফৌজদারি আদালতে দায়ের করেছিল এবং পরে বুঝতে পেরে সঠিক আদালতে দেয়, তবে আদালত তামাদি আইনের ধারা ১৪ অনুসারে সময়সীমা শিথিল করতে পারে।
🔹 ধারা ৩ মামলার উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে?
✅ (১) সময়সীমা পার হলে মামলা করা যাবে না
➡ ধারা ৩ অনুসারে, নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে মামলাটি খারিজ হয়ে যাবে।
✅ (২) আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা খারিজ করবে
➡ প্রতিপক্ষ আপত্তি না জানালেও আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে তামাদি মামলা খারিজ করবে।
✅ (৩) এটি দেওয়ানি ও আপিল মামলায় প্রযোজ্য
➡ শুধুমাত্র ফৌজদারি মামলা ছাড়া অন্যান্য সব ক্ষেত্রে এটি কার্যকর।
✅ (৪) আদালতের বিশেষ ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে
➡ আদালত ইচ্ছামতো তামাদি আইন শিথিল করতে পারে না, তবে ধারা ৫, ৬ ও ১৪-এর অধীনে কিছু ব্যতিক্রম আছে।
✅ (৫) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে ও মামলা জট কমায়
➡ যদি নির্দিষ্ট সময়ের পরেও মামলা করা যেত, তবে আদালত মামলার চাপে ভুগত এবং প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হতো।
🔹 উপসংহার
🔹 ধারা ৩-এর মূল বক্তব্য:
✅ নির্ধারিত সময়ের পর মামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
✅ প্রতিপক্ষ আপত্তি না জানালেও আদালত মামলা খারিজ করবে।
✅ দেওয়ানি ও আপিল মামলায় প্রযোজ্য, তবে ফৌজদারি মামলায় নয়।
✅ আদালতের বিশেষ ক্ষমতা থাকলেও এটি শিথিল করা যায় না, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া।
✅ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মামলা জট কমানোই এই ধারার মূল উদ্দেশ্য।
✅ পরবর্তী প্রশ্নের উত্তর চান? নাকি এই উত্তরে কোনো সংযোজন প্রয়োজন?