তামাদি আইনের ধারা ২৮ অনুযায়ী অধিকার বিলুপ্তির বিধান সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় – ব্যাখ্যা

📜 ধারা ২৮ এর বিধান:

👉 **তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৮ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের না করলে তার অধিকার (right to property) বিলুপ্ত হয়ে যায়।

📌 মূল বক্তব্য:

  • যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা করা না হয়, তাহলে মামলা করার অধিকার (remedy) হারিয়ে যায়।
  • কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে অধিকার (right) সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয় না।

🔸 কেন অধিকার সব ক্ষেত্রে বিলুপ্ত হয় না?

ধারা ২৮ মূলত সমবায় সম্পত্তি বা ভোগদখলযোগ্য অধিকার সংক্রান্ত দাবির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু এটি চুক্তি বা স্বত্বভিত্তিক অধিকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নিচে কয়েকটি ব্যতিক্রম আলোচনা করা হলো—

✅ (১) অধিকারের বিলোপ এবং প্রতিকারের বিলোপের মধ্যে পার্থক্য

🔹 তামাদি আইন মূলত প্রতিকার (remedy) বাতিল করে, অধিকারের (right) বিলোপ ঘটায় না।
🔹 তথাপি, কিছু ক্ষেত্রে অধিকারও বিলুপ্ত হতে পারে।

📌 উদাহরণ:

  • জমির মালিকানা সংক্রান্ত মামলা: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা না করলে মামলা করার সুযোগ (remedy) হারাবে, কিন্তু মালিকানা (right) নষ্ট হবে না।

✅ (২) চুক্তিভিত্তিক অধিকারের ক্ষেত্রে ধারা ২৮ প্রযোজ্য নয়

🔹 চুক্তির অধিকার সংরক্ষিত থাকে, যদিও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে মামলা করা না যায়।

📌 উদাহরণ:

  • কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের কাছে টাকা পাবে, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করেনি।
  • এতে তার টাকা পাওয়ার অধিকার (right) বিলুপ্ত হবে না, শুধু আইনি প্রতিকার (remedy) পাওয়া সম্ভব হবে না।

✅ (৩) প্রতারণা বা গোপনীয়তার কারণে মামলা দেরি হলে অধিকারের বিলোপ ঘটে না

🔹 যদি কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয় বা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয় এবং এ কারণে সে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা করতে না পারে, তাহলে তার অধিকার সংরক্ষিত থাকে।

📌 উদাহরণ:

  • কোনো জমির দলিল জাল করে অন্যের নামে নিবন্ধন করা হলো, কিন্তু প্রকৃত মালিক এটি জানতেন না।
  • যখন তিনি প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারবেন, তখন থেকেই তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।
  • অর্থাৎ তার অধিকার (right) বিলুপ্ত হবে না, কেবল মামলা করার সুযোগ (remedy) নির্দিষ্ট শর্তে পাওয়া যাবে।

✅ (৪) সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়

🔹 সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলেও, সরকারি সম্পত্তির মালিকানা বা অধিকারের বিলোপ ঘটে না।

📌 উদাহরণ:

  • কেউ যদি সরকারি জমি দখল করে এবং সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা না করে, তাতে সরকারের জমির অধিকার (ownership) বিলুপ্ত হবে না।

✅ (৫) অপরাধমূলক বা সংবিধিবদ্ধ অধিকারের ক্ষেত্রে ধারা ২৮ প্রযোজ্য নয়

🔹 অপরাধমূলক কার্যক্রম বা সংবিধিবদ্ধ অধিকারের ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রতিকারের সুযোগ সীমিত করতে পারে, কিন্তু অধিকারের বিলোপ ঘটায় না।

📌 উদাহরণ:

  • যদি কারো বিরুদ্ধে প্রতারণা বা বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ হয়ে থাকে, তবে ফৌজদারি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়।
  • ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন পরেও অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।

🔸 উপসংহার

তামাদি আইন প্রতিকার (remedy) বাতিল করে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে অধিকার (right) বিলুপ্ত করে না।
তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন সম্পত্তি সংক্রান্ত অধিকার ক্ষেত্রে এটি অধিকারকেও বিলুপ্ত করতে পারে।
প্রতারণা, সরকারি মালিকানা, সংবিধিবদ্ধ অধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ধারা ২৮ কার্যকর হয় না।

সুতরাং, “তামাদি আইন অধিকারকে নয়, বরং প্রতিকারকে বারিত করে” এই নীতির ব্যাখ্যা অনুযায়ী ধারা ২৮-এর বিধান সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।