🔹 ভূমিকা
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৭ ইজমেন্ট অধিকারের দাবির ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত নির্ধারণ করে, যেখানে জমি বা পানি জীবনকালীন মালিকানা বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইজারা থাকলে, সেই সময়সীমা হিসাব থেকে বাদ যাবে।
📌 মূল উদ্দেশ্য:
✅ জীবনকালীন মালিক বা ইজারাদারের মাধ্যমে অর্জিত ইজমেন্ট অধিকার যেন পরবর্তী আসল মালিকের বিরুদ্ধে দাবি করা না যায়।
✅ সর্বোচ্চ ২০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন উপভোগের সময়সীমা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা।
✅ মূল মালিক তার সম্পত্তির অধিকার পুনরুদ্ধার করার জন্য যথাযথ সুযোগ পায়।
🔹 ধারা ২৭-এর মূল বিধান
📜 (১) জীবনকালীন স্বত্ব বা ৩ বছরের বেশি সময়ের ইজারা থাকলে সময় বাদ যাবে
➡ যদি কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তি কোনো ব্যক্তিকে জীবনকালীন মালিকানা (life interest) বা ৩ বছরের বেশি সময়ের জন্য ইজারা দিয়ে থাকে, তাহলে সেই সময় ইজমেন্ট অধিকার দাবি করার ক্ষেত্রে গণনা হবে না।
📜 (২) মূল মালিক তিন বছরের মধ্যে বিরোধ করলে ইজমেন্ট অধিকার থাকবে না
➡ যদি আসল মালিক (reversioner) তার জমির মালিকানা পুনরুদ্ধার করার পর তিন বছরের মধ্যে ইজমেন্ট অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করে, তাহলে পূর্ববর্তী ইজমেন্ট অধিকার হারিয়ে যাবে।
📌 উদাহরণ:
✅ একটি জমি ১০ বছরের জন্য একজন বিধবার (Hindu Widow) জীবদ্দশায় ছিল।
✅ একজন ব্যক্তি ২৫ বছর ধরে সেই জমির ওপর রাস্তা ব্যবহার করেছেন।
✅ কিন্তু বিধবা মারা যাওয়ার পর মূল মালিক দুই বছরের মধ্যে ওই রাস্তা ব্যবহারের বিরোধিতা করলেন।
✅ এই ক্ষেত্রে, ১০ বছরের ইজমেন্ট হিসাব থেকে বাদ যাবে এবং শুধুমাত্র ১৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন উপভোগ থাকবে, যা ২০ বছরের প্রয়োজনীয় সময়ের কম।
➡ ফলে, ইজমেন্ট অধিকার প্রমাণিত হবে না এবং মামলাটি খারিজ হবে।
🔹 ধারা ২৭-এর আইনি গুরুত্ব
✅ (১) মূল মালিকের অধিকার সংরক্ষণ করে।
➡ ইজারাদার বা জীবনকালীন মালিক থাকাকালীন কেউ ইজমেন্ট অধিকার দাবি করলে, আসল মালিকের স্বত্বহানির আশঙ্কা থাকে।
➡ তাই, আসল মালিকের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য এই ধারা কার্যকর।
✅ (২) ইজারাদার বা জীবনকালীন মালিক কর্তৃক ভুলভাবে অধিকার সৃষ্টির ঝুঁকি কমায়।
➡ যদি সম্পত্তির মালিকানা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারো কাছে থাকে, তবে সেটিকে ইজমেন্ট অধিকার দাবির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
✅ (৩) বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তিন বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করে।
➡ যদি মূল মালিক তিন বছরের মধ্যে কোনো আপত্তি না করেন, তবে ইজমেন্ট অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।
🔹 উপসংহার
📌 ধারা ২৭-এর সারসংক্ষেপ:
✔ জীবনকালীন মালিকানা বা ৩ বছরের বেশি সময়ের ইজারার ক্ষেত্রে ইজমেন্ট অধিকার প্রতিষ্ঠার সময় গণনা করা যাবে না।
✔ মূল মালিক তার সম্পত্তির ওপর অধিকার পুনরুদ্ধার করার পর তিন বছরের মধ্যে যদি ইজমেন্ট অধিকার চ্যালেঞ্জ করেন, তাহলে সেটি বাতিল হয়ে যাবে।
✔ এই বিধান জমির প্রকৃত মালিকের স্বার্থ রক্ষা করে এবং ইজারাদারদের মাধ্যমে অবৈধ অধিকার সৃষ্টির পথ বন্ধ করে।