🔹 ভূমিকা
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৪ নির্ধারণ করে যে, যদি কোনো কার্যকলাপের কারণে সরাসরি কোনো ক্ষতি না ঘটে এবং সে কারণে কোনো মামলা দায়েরের সুযোগ না থাকে, তবে যখন প্রকৃত ক্ষতি বা ক্ষতির ফলাফল প্রকাশ পাবে, তখন থেকে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।
📌 এর অর্থ:
✅ যদি কোনো কাজ অবিলম্বে ক্ষতি না ঘটায়, তবে ক্ষতি প্রকাশ পাওয়ার পর মামলা দায়েরের সময় শুরু হবে।
✅ এটি নিশ্চিত করে যে, কোনো ব্যক্তি কেবলমাত্র সময়সীমার কারণে সুবিচার থেকে বঞ্চিত হবে না।
🔹 ধারা ২৪-এর মূল বিধান
📜 (১) তামাদি সময় গণনার নীতি
যদি কোনো কাজের ফলে সরাসরি কোনো ক্ষতি না হয় এবং ক্ষতির ফলাফল পরে প্রকাশ পায়, তবে ক্ষতি প্রকাশ পাওয়ার সময় থেকে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।
📌 উদাহরণ:
🔹 একটি খনি মালিক (B) জমির নিচে কয়লা উত্তোলন করল, কিন্তু তৎক্ষণাৎ জমির উপরিভাগে (A) কোনো দৃশ্যমান ক্ষতি হয়নি।
🔹 পরবর্তী সময়ে, কয়লা উত্তোলনের ফলে জমির উপরের অংশ ধসে পড়ল।
🔹 এই ধসের দিন থেকেই ক্ষতিপূরণ মামলার তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।
🔹 ধারা ২৪-এর প্রয়োগ ক্ষেত্র
✅ (১) সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহার সংক্রান্ত মামলা
➡ যদি কেউ অন্যের সম্পত্তির নিচে খনন করে বা অন্যভাবে ক্ষতি করে, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতি দৃশ্যমান না হয়, তবে ক্ষতি প্রকাশ পাওয়ার পর মামলা দায়ের করা যাবে।
✅ (২) চুক্তি লঙ্ঘনজনিত ক্ষতিপূরণ মামলা
➡ যদি চুক্তিভঙ্গের ফলে তৎক্ষণাৎ কোনো ক্ষতি না হয়, তবে যখন ক্ষতির প্রভাব দেখা দেবে, তখন থেকে তামাদি সময় গণনা হবে।
✅ (৩) নির্মাণ বা অবকাঠামো সংক্রান্ত ক্ষতি
➡ যদি একটি ভবনের নির্মাণ ত্রুটিপূর্ণ হয় এবং পরবর্তী সময়ে ফাটল বা ধস দেখা দেয়, তবে ফাটল বা ধসের দিন থেকে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।
🔹 ধারা ২৪-এর উপকারিতা
✅ (১) বিলম্বিত ক্ষতির জন্য সুবিচার নিশ্চিত করে।
✅ (২) অবৈধ কাজের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুযোগ দেয়।
✅ (৩) আদালতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করে।
🔹 উপসংহার
📌 ধারা ২৪-এর সারসংক্ষেপ:
✔ যদি কোনো কাজের ফলে তাৎক্ষণিক ক্ষতি না ঘটে, তবে যখন প্রকৃত ক্ষতি প্রকাশ পাবে, তখন থেকে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।
✔ এটি সম্পত্তি, চুক্তি, এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান।
✔ আইনি স্বচ্ছতা ও সুবিচার নিশ্চিত করতে এই ধারা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।