ধারা ২২: নতুন বাদী বা বিবাদী যোগ বা পরিবর্তনের প্রভাব

🔹 ভূমিকা

তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২২ নির্ধারণ করে যে, যদি কোনো মামলায় নতুন বাদী (Plaintiff) বা বিবাদী (Defendant) যোগ করা হয় বা পরিবর্তন করা হয়, তবে সেই ব্যক্তি মামলা দায়েরের সময় থেকে নয়, বরং যেদিন তাকে পক্ষভুক্ত করা হয়, সেদিন থেকে মামলা শুরু হয়েছে বলে গণ্য হবে।

📌 এই ধারা মূলত দুটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়:
নতুন যোগ করা বাদী বা বিবাদীর জন্য নতুন তামাদি সময় গণনা হবে।
কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে, এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।


🔹 ধারা ২২-এর মূল বিধান

📜 (১) নতুন বাদী বা বিবাদী যুক্ত হলে তামাদি সময় গণনা কবে থেকে শুরু হবে?

যদি কোনো মামলায় বাদী বা বিবাদী পরিবর্তন করা হয়, তবে তার ক্ষেত্রে মামলাটি দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে যেদিন তাকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে।

📌 এর মানে:
যদি মামলার মূল বাদী মারা যান এবং নতুন কোনো ব্যক্তি তার জায়গায় আসেন, তবে তার ক্ষেত্রে মামলাটি সেই দিন থেকে গণনা হবে, যেদিন তিনি মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
যদি কোনো নতুন বিবাদী মামলায় যোগ করা হয়, তবে তার জন্য তামাদি সময় নতুনভাবে গণনা শুরু হবে।

📜 (২) কিছু ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না

নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে ধারা ২২(১) প্রযোজ্য হবে না:

(ক) স্বত্ব বা স্বার্থ হস্তান্তর বা উত্তরাধিকার সূত্রে স্থানান্তর হলে
➡ যদি মামলার চলাকালীন কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তির স্বত্ব বা স্বার্থ অন্য ব্যক্তিকে বিক্রি করেন বা হস্তান্তর করেন, তবে নতুন মালিকের ক্ষেত্রে মামলার তামাদি সময় পরিবর্তন হবে না।

(খ) বাদীকে বিবাদী বা বিবাদীকে বাদী হিসেবে পরিবর্তন করা হলে
➡ যদি কোনো মামলায় বাদীকে বিবাদী হিসেবে বা বিবাদীকে বাদী হিসেবে যুক্ত করা হয়, তবে ধারা ২২(১) প্রযোজ্য হবে না।


🔹 ধারা ২২-এর প্রয়োগ ক্ষেত্র

(১) নতুন ব্যক্তিকে বাদী বা বিবাদী হিসেবে যোগ করা হলে তামাদি সময় নতুনভাবে গণনা হবে।
(২) সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন হলে নতুন মালিকের জন্য তামাদি সময় পরিবর্তন হবে না।
(৩) বাদী বা বিবাদীর ভূমিকা বদলানো হলে তামাদি সময় পরিবর্তিত হবে না।


🔹 উদাহরণসহ ব্যাখ্যা

📌 উদাহরণ ১:
🔹 একটি মামলা ২০২০ সালে দায়ের হয়।
🔹 ২০২৩ সালে নতুন একজন বিবাদী যুক্ত করা হলো।
🔹 এই নতুন বিবাদীর জন্য মামলাটি ২০২৩ সালে দায়ের হয়েছে বলে ধরা হবে।

📌 উদাহরণ ২:
🔹 একটি সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা ২০১৯ সালে দায়ের হয়।
🔹 ২০২১ সালে মূল মালিক তার সম্পত্তি অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দেন।
🔹 নতুন মালিকের বিরুদ্ধে যদি মামলা চলতে থাকে, তবে তামাদি সময় ২০১৯ সাল থেকে গণনা হবে, ২০২১ সাল থেকে নয়।

📌 উদাহরণ ৩:
🔹 একটি চুক্তি সংক্রান্ত মামলা চলছে, যেখানে বাদী ভুলবশত বাদী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন, কিন্তু তিনি প্রকৃতপক্ষে বিবাদী হওয়ার কথা ছিল।
🔹 তাকে বাদী থেকে বিবাদী হিসেবে পরিবর্তন করা হলো।
🔹 এই পরিবর্তন তার তামাদি সময় পরিবর্তন করবে না।


🔹 ধারা ২২-এর উপকারিতা

(১) নতুন পক্ষ যুক্ত হলে তাদের জন্য সুবিচার নিশ্চিত হয়।
(২) সম্পত্তির স্বত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে মামলার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
(৩) বাদী ও বিবাদীর ভূমিকা পরিবর্তন করলে মামলার কাঠামো ঠিক থাকে।


🔹 উপসংহার

📌 ধারা ২২-এর সারসংক্ষেপ:
নতুন বাদী বা বিবাদী যুক্ত হলে, তার জন্য মামলা দায়ের হয়েছে বলে ধরা হবে যেদিন তাকে যুক্ত করা হয়েছে।
যদি কোনো সম্পত্তির মালিকানা বদলায়, তবে নতুন মালিকের জন্য মামলার তামাদি সময় পরিবর্তিত হবে না।
যদি বাদীকে বিবাদী বা বিবাদীকে বাদী করা হয়, তবে তামাদি সময় একই থাকবে।
এই বিধান মামলার সুবিচার ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।