🔹 ভূমিকা
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৯ (Section 9) তামাদির সময় গণনার নিয়ম ব্যাখ্যা করে।
এই ধারা অনুযায়ী, একবার তামাদির সময় গণনা শুরু হলে, তা কোনো ব্যক্তিগত অযোগ্যতা বা পরবর্তী কোনো ঘটনার কারণে স্থগিত হবে না। অর্থাৎ, একবার তামাদির ঘড়ি চালু হলে, তা চলতেই থাকবে।
এটি আইনের কঠোরতা বজায় রেখে আদালতকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে রাখতে সাহায্য করে।
🔹 ধারা ৯-এর মূল বক্তব্য
(১) ধারা ৯-এর আইনি সংজ্ঞা
🔍 আইনি বিধান:
“যখন একবার কোনো মামলার জন্য তামাদির সময় গণনা শুরু হয়, তখন তা কোনো ব্যক্তিগত অযোগ্যতা (Disability) বা পরবর্তী কোনো ঘটনার কারণে বন্ধ হবে না।”
✅ যদি একবার তামাদির সময় গণনা শুরু হয়, তবে তা চলতে থাকবে।
✅ কোনো ব্যক্তিগত কারণ বা আইনি বাধা এর সময়সীমা বন্ধ করতে পারবে না।
(২) ধারা ৯-এর শর্তাবলী
- (ক) তামাদির সময়সীমা একবার শুরু হলে, তা ব্যক্তিগত কারণে থামবে না।
- (খ) কেউ যদি তামাদির সময়সীমার মাঝখানে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে তামাদির সময় থামবে না।
- (গ) কেউ যদি দেশের বাইরে চলে যায়, তবে তামাদি গণনা চলতে থাকবে।
- (ঘ) আদালত বিশেষ ক্ষেত্রে তামাদির সময়সীমা শিথিল করতে পারে না।
(৩) ধারা ৯ কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
✅ (ক) সাধারণ দেওয়ানি মামলায়
➡ যদি কোনো ব্যক্তি ১২ বছরের মধ্যে সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলা না করে, তবে ১২ বছর শেষ হলে সে তার অধিকার হারাবে।
✅ (খ) ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে মামলা দেরি হলে
➡ যদি কোনো ব্যক্তি মামলা করার আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবুও তামাদির সময়সীমা থামবে না।
✅ (গ) কর্মস্থল বা বিদেশ যাওয়ার কারণে দেরি হলে
➡ যদি কেউ বিদেশে চলে যায় এবং তামাদির সময় পার হয়ে যায়, তবে সে ফিরে আসার পর নতুন করে সময় পাবে না।
❌ তবে, যদি কোনো ব্যক্তি তামাদির সময় শুরু হওয়ার আগেই অসুস্থ বা নাবালক থাকে, তবে ধারা ৬ বা ধারা ৭ প্রযোজ্য হবে।
📌 উদাহরণ:
➡ একটি সম্পত্তি মামলা করার সময়সীমা ১২ বছর। যদি মালিক তামাদির ৫ বছর পর মানসিক অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে তামাদির সময় গণনা বন্ধ হবে না এবং ১২ বছর পর তার অধিকার শেষ হয়ে যাবে।
➡ একজন ব্যক্তি তার ঋণ আদায়ের জন্য ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে পারত, কিন্তু সে বিদেশে ছিল। তবুও, তামাদির ৩ বছর পার হয়ে গেলে, সে আর মামলা করতে পারবে না।
🔹 ধারা ৯-এর প্রভাব
✅ (১) আইনের কঠোরতা বজায় রাখে
➡ এটি নিশ্চিত করে যে, মামলা দেরি করার অজুহাত দিয়ে কেউ তামাদি আইনকে ফাঁকি দিতে পারবে না।
✅ (২) আইনি স্থিতিশীলতা বজায় রাখে
➡ একবার তামাদির সময় শুরু হলে, তা চলতে থাকবে এবং এটি আদালতের কাজকে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে রাখে।
✅ (৩) মামলার অযথা বিলম্ব প্রতিরোধ করে
➡ অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে মামলা দেরি করতে চায়, কিন্তু ধারা ৯ নিশ্চিত করে যে, একবার সময়সীমা শুরু হলে তা চলতেই থাকবে।
✅ (৪) প্রতারণা প্রতিরোধ করে
➡ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করে আইনি সুবিধা নিতে পারবে না।
🔹 উপসংহার
🔹 ধারা ৯-এর মূল বক্তব্য:
✅ একবার তামাদির সময় গণনা শুরু হলে, তা ব্যক্তিগত কারণে বন্ধ হবে না।
✅ মানসিক অসুস্থতা, বিদেশে থাকা বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে সময় থামবে না।
✅ এটি আইনের কঠোরতা বজায় রেখে মামলার বিলম্ব প্রতিরোধ করে।
✅ এই বিধান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ও প্রতারণা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
✅ পরবর্তী প্রশ্নের উত্তর চান? নাকি এই উত্তরে কোনো সংযোজন প্রয়োজন?