কোন পরিস্থিতিতে আদালত ঘোষণামূলক ডিক্রি দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে?

📜 সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৪২ অনুযায়ী, ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) কেবল তখনই দেওয়া হয়, যখন বাদী তার অধিকার বা স্বত্বের বিষয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন এবং আদালতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।

✅ তবে, আদালত কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে ঘোষণামূলক ডিক্রি দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।


📌 নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে আদালত ঘোষণামূলক ডিক্রি দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন:

🔴 ১. যদি বাদীর কার্যকর প্রতিকার পাওয়ার অন্য উপায় থাকে (Alternative Effective Remedy Available)

📌 যদি বাদী অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা বা প্রতিকার (Relief) পাওয়ার যোগ্য হন, তাহলে আদালত শুধুমাত্র ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করবেন না।
🔹 উদাহরণ:

  • বাদী যদি জমির মালিকানা দাবি করেন এবং তার দখল নেই, তবে শুধুমাত্র ঘোষণামূলক ডিক্রি চাওয়ার পরিবর্তে, তিনি দখল পুনরুদ্ধারের মামলা (Suit for Possession) করতে পারেন।
  • যদি কোনো ব্যক্তি সম্পত্তি সংক্রান্ত অধিকার চ্যালেঞ্জ করেন, এবং এটি মালিকানা সংক্রান্ত মামলা হয়ে থাকে, তবে আদালত সরাসরি মালিকানা নির্ধারণ করতে পারেন এবং শুধুমাত্র ঘোষণামূলক ডিক্রি দিতে নাও পারেন।

📌 👉 রেফারেন্স: Md. Salam vs. Bangladesh (1998) 50 DLR (AD) 305
ঘোষণামূলক ডিক্রি তখনই দেওয়া হয়, যখন বাদীর কাছে অন্য কোনো কার্যকর প্রতিকার নেই।


🔴 ২. যদি বাদীর স্বত্ব বা অধিকার সুস্পষ্ট না হয় (No Clear Legal Right of Plaintiff)

📌 ঘোষণামূলক ডিক্রি পাওয়ার জন্য বাদীকে অবশ্যই তার স্বত্ব বা অধিকার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে হবে।
🔹 উদাহরণ:

  • যদি বাদী কোনো সম্পত্তির উপর তার মালিকানা দাবি করেন, কিন্তু তার কাছে কোনো বৈধ দলিল বা প্রমাণ না থাকে, তবে আদালত তার পক্ষে ডিক্রি দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
  • যদি বাদীর দাবির বৈধতা নিয়ে সন্দেহ থাকে, তাহলে আদালত তার পক্ষে রায় দেবেন না।

📌 👉 রেফারেন্স: Abdul Karim vs. Rahimuddin (2004) 56 DLR (AD) 218
ঘোষণামূলক ডিক্রি কেবল তখনই দেওয়া হবে, যখন বাদীর স্বত্ব বা আইনি অধিকার আদালতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।


🔴 ৩. যদি মামলাটি তুচ্ছ বা অপ্রয়োজনীয় হয় (Frivolous or Unnecessary Suit)

📌 যদি মামলার উদ্দেশ্য হয় শুধুমাত্র প্রতিপক্ষকে হয়রানি করা বা অপ্রয়োজনীয় হয়, তবে আদালত ঘোষণামূলক ডিক্রি দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
🔹 উদাহরণ:

  • কোনো ব্যক্তি যদি একই বিষয় নিয়ে পূর্বে আদালতে মামলা করে হেরে যান, এবং পুনরায় একই বিষয়ে ঘোষণামূলক ডিক্রির আবেদন করেন।
  • আদালত যদি মনে করেন যে বাদী শুধুমাত্র প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার জন্য মামলা করেছেন এবং এর বাস্তব কোনো প্রয়োজন নেই।

📌 👉 রেফারেন্স: Rahmat Ali vs. State (1995) 48 DLR (AD) 134
যদি মামলাটি ভিত্তিহীন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়, তাহলে আদালত তা খারিজ করে দেবেন।


🔴 ৪. যদি মামলার মধ্যে সম্পত্তির প্রকৃত মালিক বাদ পড়েন (Non-joinder of Necessary Party)

📌 যদি মামলায় সম্পত্তির প্রকৃত মালিক বা প্রভাবিত ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয়, তবে আদালত ঘোষণামূলক ডিক্রি দিতে পারেন না।
🔹 উদাহরণ:

  • যদি বাদী দাবি করেন যে তিনি একটি সম্পত্তির মালিক, কিন্তু যাদের নামে দলিল আছে বা সরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ প্রয়োজন, তারা মামলায় অন্তর্ভুক্ত না হন।

📌 👉 রেফারেন্স: Karim vs. Latif (2001) 53 DLR (AD) 275
যদি মামলায় প্রয়োজনীয় পক্ষ বাদ পড়ে, তবে আদালত ঘোষণামূলক ডিক্রি দিতে অস্বীকৃতি জানাবেন।


🔴 ৫. যদি ঘোষণামূলক ডিক্রি দেওয়া হলেও তা কার্যকর না হয় (Ineffectual Decree)

📌 যদি ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা হলেও তা বাস্তবে কোনো কার্যকর ফল না দেয়, তাহলে আদালত এটি দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
🔹 উদাহরণ:

  • যদি বাদী ঘোষণামূলক ডিক্রি পান, কিন্তু তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা বিচারাধীন থাকে যা এই ডিক্রিকে কার্যকর করতে বাধা দেয়।
  • যদি ডিক্রি দেওয়ার পরেও বাদী তার অধিকার পুনরুদ্ধার করতে না পারেন।

📌 👉 রেফারেন্স: Nurul Islam vs. Bangladesh (1997) 49 DLR (AD) 401
ঘোষণামূলক ডিক্রি তখনই দেওয়া হবে, যখন তা কার্যকর ফলাফল আনতে সক্ষম হবে।


📌 উপসংহার

আদালত ঘোষণামূলক ডিক্রি তখনই দিতে অস্বীকৃতি জানাবেন, যখন:
🔹 বাদীর অন্য কার্যকর প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকে।
🔹 বাদীর স্বত্ব বা অধিকার সুস্পষ্ট নয়।
🔹 মামলাটি তুচ্ছ বা অপ্রয়োজনীয় হয়।
🔹 প্রয়োজনীয় পক্ষ মামলায় অন্তর্ভুক্ত না হয়।
🔹 ডিক্রি কার্যকর করা সম্ভব না হয়।