কার্যকর হলফনামা (Affidavit) কীভাবে তৈরি করবেন?

হলফনামা একটি লিখিত ঘোষণা, যা এক ব্যক্তি তার বক্তব্য বা দাবির সত্যতা প্রতিপন্ন করতে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হতে তৈরি করে। হলফনামা সাধারণত আদালত বা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে ব্যবহার করা হয়, যেখানে একজন ব্যক্তি স্বীকার করে যে তার বক্তব্য সত্য। এটি একটি আইনি দলিল, যা স্বীকারোক্তি প্রদানকারী ব্যক্তির কাছে একটি শপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এখানে কার্যকর হলফনামা প্রস্তুত করার কৌশলগুলো তুলে ধরা হলো:

১. হলফনামার শিরোনাম এবং উদ্দেশ্য (Title and Purpose)

হলফনামা লেখার আগে প্রথমে তার উদ্দেশ্য এবং শিরোনাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। শিরোনামটি সাধারণত “হলফনামা” অথবা “শপথনামা” হিসেবে থাকবে।

  • উদাহরণ:
    “এফিডেভিট (হলফনামা) সংক্রান্ত শপথনামা”

২. প্রারম্ভিক তথ্য (Introductory Information)

হলফনামা প্রস্তুতকারী ব্যক্তির (অথবা হলফনামাকারী) পরিচিতি, ঠিকানা, পেশা ইত্যাদি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে। এটা নিশ্চিত করবে যে, কে এই হলফনামা তৈরি করছে এবং তিনি কোথা থেকে আসছেন।

  • উদাহরণ:
    “আমি, জন ডো, পিতা: আনা ডো, বয়স ৪৫ বছর, পেশা: ব্যবসায়ী, বর্তমান ঠিকানা: ১২৩, ঢাকা রোড, ঢাকা, বাংলাদেশ।”

৩. শপথ/সংকল্প (Oath/Affirmation)

হলফনামা তৈরি করার সময়, ব্যক্তি একটি শপথ গ্রহণ করে যে তার উল্লিখিত তথ্য বা বিবরণ সঠিক এবং সত্য। এটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে হলফনামাকারী তার বক্তব্য বা দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

  • উদাহরণ:
    “আমি, জন ডো, শপথ করছি যে, নিচে উল্লেখিত তথ্যগুলো আমার জানা মতে সঠিক এবং সত্য।”

৪. বিবৃতি বা তথ্য (Statements or Facts)

এটি হলফনামার প্রধান অংশ, যেখানে হলফনামাকারী তার বা তার দখলে থাকা বা জানা কোনো ঘটনার বিবরণ প্রদান করে। এখানে প্রতিটি তথ্য বা দাবী পরিষ্কার এবং সঠিকভাবে লিখতে হবে।

  • উদাহরণ:
    “১. আমি ১০ বছর ধরে ঢাকা শহরে বসবাস করছি।
    ২. আমার নামে কোনো অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই।
    ৩. আমি যে বাড়িতে বসবাস করি, সেটি ২০১৫ সাল থেকে আমার মালিকানাধীন।”

৫. স্বাক্ষর ও তারিখ (Signature and Date)

হলফনামার শেষে হলফনামাকারী তার স্বাক্ষর করবেন এবং তারিখ উল্লেখ করবেন। এই অংশটি হলফনামার আইনি বৈধতা নিশ্চিত করে।

  • উদাহরণ:
    “স্বাক্ষর: _____________________
    তারিখ: ১৫ মার্চ, ২০২৫”

৬. নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেটের সীল (Notary Public or Magistrate’s Seal)

একটি কার্যকর হলফনামা সাধারণত নোটারি পাবলিক বা কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শপথ গ্রহণ করতে হয়। এরপর হলফনামার নীচে নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেটের সীল অথবা স্বাক্ষর থাকবে।

  • উদাহরণ:
    “আমি, নোটারি পাবলিক [নাম], ঢাকা, বাংলাদেশ, এই হলফনামার সত্যতা নিশ্চিত করছি।”

৭. সাক্ষী (Witness)

কিছু হলফনামায় সাক্ষীর উপস্থিতি এবং স্বাক্ষরও প্রয়োজন হতে পারে। এই ক্ষেত্রে, সাক্ষী তার নাম, পেশা এবং ঠিকানা উল্লেখ করবেন, এবং হলফনামা সাক্ষর করবে। তবে, সব সময় সাক্ষী প্রয়োজন হয় না।

  • উদাহরণ:
    “সাক্ষী:
    নাম: রাহুল খান
    পেশা: শিক্ষক
    ঠিকানা: ১২৪, ঢাকা রোড, ঢাকা, বাংলাদেশ”

৮. অন্যান্য তথ্য বা শর্ত (Additional Information/Clauses)

আপনি যদি কোনও নির্দিষ্ট শর্ত, বিধি বা আইনি দিকগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে চান, তবে তা এখানে উল্লেখ করুন।

  • উদাহরণ:
    “এই হলফনামাটি শুধুমাত্র বিচারিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে এবং এর মধ্যে থাকা তথ্য আইন অনুযায়ী প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।”

হলফনামার নমুনা (Sample Affidavit)

এফিডেভিট (হলফনামা) সংক্রান্ত শপথনামা

আমি, জন ডো, পিতা: আনা ডো, বয়স ৪৫ বছর, পেশা: ব্যবসায়ী, বর্তমান ঠিকানা: ১২৩, ঢাকা রোড, ঢাকা, বাংলাদেশ, শপথ করছি যে, নিচে উল্লেখিত তথ্যগুলো আমার জানা মতে সঠিক এবং সত্য।

১. আমি ১০ বছর ধরে ঢাকা শহরে বসবাস করছি।  
২. আমার নামে কোনো অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই।  
৩. আমি যে বাড়িতে বসবাস করি, সেটি ২০১৫ সাল থেকে আমার মালিকানাধীন।

স্বাক্ষর: _____________________  
তারিখ: ১৫ মার্চ, ২০২৫

নোটারি পাবলিক সীল: _____________________

সাক্ষী:  
নাম: রাহুল খান  
পেশা: শিক্ষক  
ঠিকানা: ১২৪, ঢাকা রোড, ঢাকা, বাংলাদেশ  

মনে রাখার বিষয়সমূহ:

  • হলফনামা প্রস্তুতকারীর তথ্য সঠিকভাবে লিখুন।
  • হলফনামায় যে তথ্য উল্লেখ করা হচ্ছে, তা অবশ্যই সত্য এবং আইনগতভাবে প্রমাণিত হওয়া উচিত।
  • নিশ্চিত করুন, নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেটের সীল বা স্বাক্ষর আছে।
  • সাক্ষী থাকলে তাদের তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

এই উপায়ে আপনি একটি কার্যকর হলফনামা তৈরি করতে পারবেন যা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাসঙ্গিক এবং কার্যকর হবে।