সুপ্রিম কোর্টের প্রস্তাব: বিদ্যুৎ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তিতে সারা দেশে আরও ৯৮টি আদালত স্থাপনের সুপারিশ
বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর জন্য সারা দেশে আরও ৯৮টি বিদ্যুৎ আদালত স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এই প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন, যা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ১৩ মার্চ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
বর্তমান বিদ্যুৎ আদালত ও মামলার পরিসংখ্যান
বর্তমানে দেশে ৬টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির জন্য ২৪টি বিদ্যুৎ আদালত রয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত এসব আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২৮,৭২২টি।
✅ বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির বিদ্যুৎ আদালতে বিচারাধীন মামলা:
- বাবিউবোর ৮টি আদালতে: ৭,৬৫১টি
- বাপবিবোর ২টি আদালতে: ৭,১০৬টি
- ডিপিডিসির ৪টি আদালতে: ২,৭১৯টি
- ডেসকোর ১টি আদালতে: ৩৬৫টি
- নেসকোর ৫টি আদালতে: ৯,০৮৯টি
- ওজোপাডিকোর ৪টি আদালতে: ১,৭৯২টি
এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিবরণী শাখার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সিএমএম ও সিজেএম আদালতে বিদ্যুৎ মামলা বিচারাধীন রয়েছে ১৬,৯৬৬টি।
কেন নতুন আদালত প্রয়োজন?
বর্তমানে বাংলাদেশের সব জেলায় বিদ্যুৎ আদালত নেই। ফলে বিচারপ্রার্থীদের দূরবর্তী শহরে গিয়ে মামলা করতে হয়। বিশেষত বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বাপবিবো) জন্য সারা দেশে মাত্র ২টি আদালত রয়েছে, যা উভয়ই ঢাকায় অবস্থিত। এতে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
৯৮টি নতুন আদালত কোথায় স্থাপন করা হবে?
সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী, দেশের ৬টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন অঞ্চলে নতুন বিদ্যুৎ আদালত স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
📌 বিভিন্ন কোম্পানির জন্য নির্ধারিত নতুন আদালতের সংখ্যা:
- বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো) – ১৩টি
- বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) – ৫৫টি
- নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) – ১১টি
- ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) – ১৭টি
- ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) – ২টি
প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে কী সুবিধা হবে?
✅ প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভুক্তভোগীরা সহজেই ন্যায়বিচার পাবেন।
✅ বিদ্যুৎ সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমবে।
✅ প্রত্যেক বিতরণ কোম্পানির জন্য পৃথক আদালত থাকায় মামলা পরিচালনা সহজ হবে।
✅ বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে।
এই প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হতে পারে। বিদ্যুৎ আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।