The Penal Code, 1860-এ ‘বল প্রয়োগ’, ‘অপরাধমূলক বল প্রয়োগ’ ও ‘আক্রমণ’ যথাক্রমে ধারা 349, 350 ও 351-এ সংজ্ঞায়িত হয়েছে এবং ‘দস্যুতা (Robbery)’ সংজ্ঞায়িত হয়েছে ধারা 390-এ।
(ক) ‘বল প্রয়োগ’, ‘অপরাধমূলক বল প্রয়োগ’ ও ‘আক্রমণ’ (৬ নম্বর)
১. বল প্রয়োগ (Force) — ধারা 349
যখন কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির শরীরের উপর প্রভাব ফেলে—
- নিজে
- কোনো পদার্থের মাধ্যমে
- অথবা কোনো প্রাণীর মাধ্যমে
তখন তাকে বল প্রয়োগ বলা হয়।
ব্যাখ্যা:
শরীরের গতির পরিবর্তন ঘটানোই এখানে মূল বিষয়।
উদাহরণ:
ক কাউকে ধাক্কা দিল → এটি বল প্রয়োগ।
২. অপরাধমূলক বল প্রয়োগ (Criminal Force) — ধারা 350
যখন কোনো ব্যক্তি—
- ইচ্ছাকৃতভাবে
- সম্মতি ছাড়া
- অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে
বল প্রয়োগ করে, তখন তা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ।
মূল উপাদান:
ইচ্ছা (intention)
সম্মতির অভাব
ক্ষতি/ভয়/অপমান করার উদ্দেশ্য
উদাহরণ:
ক ইচ্ছাকৃতভাবে খ-কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল তাকে অপমান করার জন্য।
৩. আক্রমণ (Assault) — ধারা 351
যখন কোনো ব্যক্তি এমন কোনো অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি নেয় যা অন্য ব্যক্তির মনে তাৎক্ষণিক আঘাতের ভয় সৃষ্টি করে— তাকে আক্রমণ বলা হয়।
ব্যাখ্যা:
এখানে প্রকৃত বল প্রয়োগ না হলেও শুধু ভয় সৃষ্টি করাই যথেষ্ট।
উদাহরণ:
ক লাঠি তুলে খ-কে মারার ভান করলো → এটি আক্রমণ।
সারসংক্ষেপ পার্থক্য
| বিষয় | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| বল প্রয়োগ | শারীরিক প্রভাব সৃষ্টি |
| অপরাধমূলক বল | অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে বল প্রয়োগ |
| আক্রমণ | ভয় সৃষ্টি, বাস্তব আঘাত না হলেও চলে |
(খ) কখন চুরি ও বলপূর্বক গ্রহণ দস্যুতা হয় (৪ নম্বর)
দস্যুতা (Robbery) — ধারা 390
চুরি (Theft) বা বলপূর্বক গ্রহণ (Extortion) নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দস্যুতা হিসেবে গণ্য হয়।
১. চুরি কখন দস্যুতা হয়
যখন—
চুরি করার সময় বা করার উদ্দেশ্যে
মৃত্যু, আঘাত বা ভয় সৃষ্টি করা হয়, তখন তা দস্যুতা।
উদাহরণ:
ক ছুরি দেখিয়ে খ-এর টাকা নিয়ে নিল → এটি দস্যুতা।
২. বলপূর্বক গ্রহণ (Extortion) কখন দস্যুতা হয়
যখন—
ভুক্তভোগী উপস্থিত থাকে
তাৎক্ষণিক মৃত্যু/আঘাতের ভয় দেখানো হয়
ভয় দেখিয়ে সম্পত্তি আদায় করা হয়, তখন তা দস্যুতা।
উদাহরণ:
ক বন্দুক দেখিয়ে খ-এর কাছ থেকে টাকা আদায় করলো।
উল্লেখযোগ্য মামলা (Case Reference)
১. State vs. Rahim
48 DLR 1996
চুরি বা extortion-এ ভয় বা বল প্রয়োগ থাকলে তা robbery হয়।
২. Abdul Karim vs. State
52 DLR 2000
assault ও criminal force-এর পার্থক্য নির্ধারণে intention গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার (Conclusion)
সুতরাং—
‘বল প্রয়োগ’ হলো সাধারণ শারীরিক প্রভাব
‘অপরাধমূলক বল’ হলো অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে বল প্রয়োগ
‘আক্রমণ’ হলো ভয় সৃষ্টি
এবং—
চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ তখনই দস্যুতা হয় যখন তা বল প্রয়োগ বা তাৎক্ষণিক ভয় প্রদর্শনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।
অতএব, Penal Code অনুযায়ী এই ধারণাগুলো অপরাধের প্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।