ধারা ২৮: সম্পত্তির অধিকারের বিলোপ

📜 বিধান

📌 ধারা ২৮ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, যদি কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা না করেন, তবে তার সেই সম্পত্তির উপর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

অর্থাৎ:
তামাদি সময়সীমা শেষ হওয়ার পর, ব্যক্তি আর আইনি উপায়ে সম্পত্তির দখল ফিরে পাওয়ার দাবি করতে পারবেন না।
এই ধারা শুধুমাত্র ‘দখল’ (Possession) সংক্রান্ত মামলা ও অধিকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।


🔹 ধারা ২৮-এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ

📜 (১) তামাদি সময়সীমা শেষ হলে অধিকার হারিয়ে যায়
➡ যদি নির্দিষ্ট তামাদি সময়ের মধ্যে কেউ সম্পত্তির দখল ফিরে পেতে মামলা না করেন, তবে তার অধিকার সম্পূর্ণভাবে লোপ পাবে।
➡ এরপর তিনি আদালতে আর ওই সম্পত্তির মালিকানা বা দখল নিয়ে কোনো মামলা দায়ের করতে পারবেন না।

📜 (২) ব্যক্তিগত অধিকারের বিলুপ্তি হয়, তবে নতুন মালিকানার সৃষ্টি হয় না
এই ধারা কেবলমাত্র পূর্বের মালিক বা দাবিদারের অধিকারকে বিলুপ্ত করে, কিন্তু নতুন মালিককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো অধিকার প্রদান করে না।
যদি তামাদি সময় পার হয়ে যায়, তাহলে প্রকৃত মালিকের দাবির ভিত্তিতে নতুন মালিক স্বীকৃতি পান না, বরং বিদ্যমান দখলদারের পক্ষে আইনগত সুরক্ষা তৈরি হয়।

📜 (৩) আইনগত স্বীকৃতি পায় এমন পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না
যদি একজন ব্যক্তি তামাদি সময়সীমার মধ্যে সম্পত্তির মালিকানা বা দখল চ্যালেঞ্জ না করেন, তবে যিনি বর্তমানে সেই সম্পত্তি ভোগ করছেন, তিনি আইনের দৃষ্টিতে বৈধ বলে গণ্য হবেন।


🔹 উদাহরণ

📌 উদাহরণ ১:
🔹 কোনো ব্যক্তি তার জমির দখল ১২ বছর ধরে হারিয়ে ফেলেছেন, কিন্তু তিনি আদালতে কোনো মামলা করেননি।
🔹 যদি তামাদি সময়সীমা (যেমন: ১২ বছর) শেষ হয়ে যায়, তাহলে তার জমির উপর আইনগত অধিকার চিরতরে লোপ পাবে।
🔹 তিনি পরবর্তীতে আদালতে এসে এই সম্পত্তি ফিরে পেতে মামলা করতে পারবেন না।

📌 উদাহরণ ২:
🔹 কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তি ভুলক্রমে অন্য কাউকে দিয়ে দেন, কিন্তু ৩০ বছর ধরে কোনো মামলা করেননি।
🔹 এই দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলে, তার মালিকানার অধিকার শেষ হয়ে যাবে এবং বর্তমানে যার দখলে আছে, সে বৈধভাবে দখল বজায় রাখতে পারবে।


🔹 ধারা ২৮-এর গুরুত্ব

(১) মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত আইনগত স্থিতিশীলতা রক্ষা করে
যাতে কেউ অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরনো মালিকানা দাবি করতে না পারে।
এতে দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতা কমে।

(২) ভূ-সম্পত্তির উপর অবৈধ দাবি প্রতিরোধ করে
যারা তামাদি সময়সীমার মধ্যে দাবি করতে ব্যর্থ হন, তারা পরবর্তীতে আর মালিকানা পুনরুদ্ধার করতে পারেন না।

(৩) তামাদি আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকৃত দখলদারকে সুরক্ষা দেয়
যিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই সম্পত্তির দখল বজায় রেখেছেন, তাকে রক্ষা করে।


🔹 উপসংহার

📌 ধারা ২৮-এর মূল সারসংক্ষেপ:
যদি নির্দিষ্ট তামাদি সময়ের মধ্যে সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের না করা হয়, তবে সম্পত্তির উপর সেই ব্যক্তির অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
এই ধারা শুধুমাত্র ‘দখল’ সংক্রান্ত অধিকার শেষ করে, নতুন মালিককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ ঘোষণা করে না।
এটি আইনগত স্থিতিশীলতা ও প্রকৃত দখলদারদের সুরক্ষা দেয়।

Related posts

তামাদি আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য ও আইনগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ভূমিকা

তামাদি আইন সংস্কারের প্রয়োজন আছে কি? – বিশ্লেষণ ও মতামত

তামাদি আইন কীভাবে নাগরিকদের অধিকার ও প্রতিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে?